nagorikkantha

লেখাটি এক বছর আগের লেখা যখন দেলোয়ার ভাই এর জয়জয়কার আওয়ামী কেন্দ্রীয়য় কমিটিতে পোস্ট পাওয়ার আগে।

রাজনীতিতে কারো পৌষ মাস আবার কারো সর্বনাশ, এক কথায় শেষ বলে নেই কিছু। ১৯৯৫ সালে এসএসসি পাস করার পরে ঢাকা কলেজে এইসএসসি তে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাই। আর সেখান থেকেই রাজনীতি জীবনের পথচলা শুরু।

স্লোগানে স্লােগানে যখন প্রকম্পিত হতো পুরো ক্যাম্পাস,কেন্টিন, একাডেমিক ভবন আর হোস্টেলের দেয়ালগুলো, তখন দেয়ালের প্রতিধ্বনিতে থর থর থর করে কাপতো ""জয় বাংলা কিংবা ""জিয়ার সৈনিক"" বলে তখনই ক্লাশ ফাকি দিয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে ছুটে যেতাম মিছিল দেখতে।

সংক্ষেপে বলা যায়,,,
সাঈদ ভাই/পলাশ ভাই আরও কতোজনই না ছিলো তখন। রাজনীতিতে জড়িয়ে পরার পর এইভাবে কেটে যায় অনেকটা দিন। ভালোই আনন্দ আর হাঁসি-খুশির মধ্য দিয়ে কেটে যেতো সময় গুলো।

যতোটা না আশা করেছি তার চেয়ে বেশি পেয়েছিলাম সবকিছুতে। ভালোবাসা, স্নেহ,মমতা,আদর অনেককিছুই।

"""দিনগুলোমোর সোনার খাঁচায় রইলোনা-""""

এভাবে হঠাৎ অল্প কিছু দিনের ব্যবধানে হিংস্র ঘাতক আমার তিনটা কলিজার টুকরা ভাইয়ের শরীরে গুলি করে ঝাঝড়া করে হত্যা করে নরপশুর চেয়েও ভয়ংকরভাবে।

পলাশ-সিদ্বার্থ-অাখি তিন ভাই সহ আরো দুজন।

হঠাৎ করে অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে এই যন্ত্রনাগুলো যেনো বেচে মরে আছি এর মতোই।

এই শোক সইবার সহ্য কোনভাবেই ছিলনা।

প্রতিবারের মতো ঢাঃ বিঃ জসীমউদ্দিন হল ছিলো আমার কাছের বন্ধুদের মধ্যে সবার প্রিয়। সবাই জমিয়ে আড্ডা দিতাম।

তাই সেই হত্যাকান্ডের শোক সইতে না পেরে ব্যাগ নিয়ে নির্বাসনের মতো চলে যাই জসীম উদ্দিন হলে।

বেশ কিছু দিনের জন্য। বেশীরভাগ সময়টাই শাহজাহান আর মিঠুর রুমে কাটতো। আরো ছিলো কালাম ভাই, মনির ভাই,সাজ্জাদ ভাই, আরো এক ভাই আমার।আরেকটার নাম মনে পড়ছেনা।

এইভাবে যখন ঢাবিতে ঘুড়ে বেড়াতাম তখন আমার সেই ভাইটি হঠাৎ একদিন বল্লো তেরা দেলোয়ারের সাথে থাকিস এতটুকুই।

আমি, হাবিব, রুবেল সহ বেশ কিছু ছেলেরা তখন থেকেই রেগুলার দেলোয়ার ভাইয়ের সাথে মিছিল, মিটিং সব জায়গায় মুব করতাম। আস্তে আস্তে তার মনমানসিকতা, ত্যাগ, ভালোবাসা আমাদের মুগ্ধ করে তোলে। দিনের দুবেলাই একসাথে ভাইয়ের সাথে আমরা চার-পাঁচজন খাওয়া দাওয়া করতাম। আর ছোট ভাইরা চলে যেতো। আবার সবসময়ই বলতো টাকা আছে তো??? না থাকলে বলিস কিন্ত।

ঢাবিতে যখন কোন এক গোষ্ঠী দেলোয়ার ভাইকে একঘড়ে করে ফেলার চিন্তা করেছিলো তখন আমরা একটি মুর্হতের জন্য তার পিছু ছাড়িনি। বহিরাগত বলার কলিজা কারো ছিলোনা কারন সবই ছিলো আমাদের বন্ধু কিংবা ছোট ভাইরা ভালো অবস্থানে।

ছোট ভাইরা অনেকেই বলতো, ভাই রাজনীতি ছেড়ে দেন, পদটদ তো পাবেনই না বরং আরো সমস্যা হবে।

আমরা বল্লাম সবই তো শেষ আর কি হবে???

না হয় মরেই যাবো!!!!!!

দেলোয়ার ভাই আমরা বেশ কিছু ঢাকা কলেজের ছাএরা প্রতিদিন। দেলোয়ার ভাইয়ের সাথেই সকল জায়গায় মুভ করতাম।

সকালে মধুর ক্যান্টিনে আবার বিকেলে টিএসসিতে, আবার রাতে ধানমন্ডি কিংবা গুলিস্তান। এই ভাবেই কাঁটতো সময় আর কতোজন অপ্রকাশ্যে বলতো ছেলেগুলির যে কি হবে, মায়া করেই বলতো মনে হতো।

দেলোয়ার ভাই আমার দেখা অন্যায় শোষন, ব্যারিকেড এর বিরুদ্ধে একজন সাহসী বীরযোদ্ধা, পিছু হটেনি। দেখিনি আমি।

নিজে হেটে আসতো আর ঢাকা কলেজের ছোট ভাইদের রিকসা দিয়ে পাঠাতো।

যদি কখনো মন খারাপ হতো আর ভাই বুঝতে পারতেন তাহলে কেয়ামত হলেও আমাক অন্তত রুমে যেতে দিতোনা, বলতো তুই আজ আমার সাথে সারাদিন থাকবি, তারপর যাবি।আর যা খাবি সব খাওয়াবো।

তার মন মানসিকতা, ত্যাগ, ও মানুষকে বুঝতে পারার মতো অসাধারন একটা যোগ্যতার মানুষ খুব কম রাজনীতিবিদই আছে।

আর তখন বুঝলাম ওই ভাইটার সিদ্বান্ত সঠিক ছিলো। (যে ভাইটা বল্লো দেলোয়ারের সাথে থাকো)

সৎ সাহস, পিছু হটেনা, দৌড় দেয়না মিছিলে-মিটিংয়ে, হরতালে, অসহযোগে, আর আত্নত্যাগ করার মানসিকতা জানে ইত্যাদি আর দুএকটা গুনের মানুষ খুবই কমই আছে।

মুখে মধু অন্তরে বিষ, এই পলিটিক্স এ।

এই মিছিল মিটিংএ আমার সামনে কতোবার লাঠির বাড়ি খাইসে আর হাসে।

তার হিসাব আমি জানিনা তবে এতোটুকু বলতে পারি সে আওয়ামীলীগ এর একজন প্রকৃত ১০০% হিরো।

এরই মধ্যে ছাএলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি হলো।( রিপন-রোটন কমিটি)।

আমি শুনলাম প্রথম চিঠিটা গাজীপুরের জাহাংগীর ভাই পাইছে।

পদ সহ-সভাপতি।

বিঃদ্রঃ)- জাহাংগীর ভাইয়েরt ছাএলীগের ফরমটা আমার হাত দিয়ে "বাটা শপ" এর দোকানের ক্যাশের উপর বসে লেখা, কালাম ভাইও ছিলো)।

আমি তাড়াহুড়ো করে, খবর নিয়ে ভাইকে ফোন না দিয়ে কলাবাগাবনে গিয়ে বল্লাম, ভাই জাহাংগীর ভাই পাইলো ছাএলীগের চিঠি আর আমরা পাইনি! আমরা কি পাবোনাো???

ভাই তখন কাকে যেনো বিরক্ত হয়ে কি বলতেছিলো একটু দূরে গিয়ে আর তার তিন দিন পর চিঠি পেলাম (রিপন- রোটন) ভাইয়ের কাছ থেকে পান্থপথ থেকে।

তিনি আর কেউ নয়, তিনি আমার অভিভাবক অনুপ্রেয়ণা আশরাফুল আলম খোকন ভাই যার জন্যই দ্রুত ছাএলীগের চিঠিটা পেয়েছিলাম।

খুবই ভালো লাগছে আজ দেলোয়ার ভাইকে নিয়ে সবাই পজিটিব লিখছে আর লিখার মতো যথেষ্ট কারন আছে বলেই লিখছে সবাই।

চারিদিকে দেলোয়ার ভাইয়ের জয়জয়কার। এমন একটা দেলায়ার এর এর মতো যদি ভালো জায়গায় রাখা হয় তাহলে আওয়ামীলীগ শত্রুরা কেউ কোনদিন দাবায়ে রাখতে পারবেনা।

এখন দেখা হয় মানুষের সাথে কম বাট চ্যাটিং বা ফোনেই কথা হয়।

জানিনা ভাইটি কেমন আছে ভুলে গেছে না আগের চাইতে আর বড়ে মনের মানুষ হয়েছে।

আমার বিশ্বাস তার মনটা আরো বড্ড বেশী বড় হয়েছে।

আমার ভাই ভালো থাকুক, যারা সত্যিকারে হাইব্রীড হয়েও অন্যদের হাইব্রীড, লালব্রীড বলে বেড়ায় তোরাও ভালো থাক এই শুভ কামনা রইলো।
আজ নেত্রী আছে বলেই আমরা অন্তত বুক ফুলিয়ে চলতে পারি।

ব্রীড আর ব্রগ্রেডা ভাইয়ারা ভালো হয়ে যাও অন্তত নেত্রীর কথা শুনুন, যিনি আমাদের শেষ ভরসা।

আপনাদের যে অকৃতিম ভালোবাসা পেয়েছি আর যেণাবে ববুকে আআগলে রেখেছেন তা বলে শেষ ককরা যাবেনা কারন অাপনাদের স্নেহের প্রতিদান দেয়ার যোগ্যতা হয়তো হবেনা কোনদিন।

আল্লাহতালা আপনাদের সবাইকে ভালো রাখুক এই দোয়া করি সবসময়।

আপনাদের ভাই,
এ,কে,এম,মনিরুজ্জামান (অরুন)
সাবেক,
সহ গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক
ঢাকা কলেজ ছাএলীগ, (পলাশ ফিরোজ কমিটি),সহ সভাপতি,ঢাকা কলেজ ছাএলীগ (সগীর-টুটুল কমিটি), সহ-সম্পাদক-বাংলাদেশ ছাএলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহি সংসদ, (রিপন -রোটন কমিটি)।

ফোন-01753448399/01924278191

২৪ অক্টোবর, ২০১৭ ১৪:৩১ পি.এম