nagorikkanthanagorikkantha

আপনার পরিবর্তন আনতে হবে...এক সময়ের বিশ্বখ্যাত মোবাইল ফোন নির্মাতা নকিয়ার কথা মনে আছে নিশ্চয়ই। গোটা দুনিয়ায় হঠাৎ করেই তারা জনপ্রিয়তা হারায়। পেশাদার হিসেবে বড় ধরনের ভুল খারাপ কিছু বয়ে আনতে পারে। নকিয়ার মতো ভুল যে কোনো পেশাজীবী ঘটিয়ে থাকলেও একই পরিণতি মিলবে। বড় ব্র্যান্ডগুলো মানুষের মতোই। তাদের আছে ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ, অবস্থান এবং নানা বৈশিষ্ট্য। আপনার সহকর্মী বা বস যে শিক্ষাই দেন না কেন, একটি ব্র্যান্ডের সফলতা ও ব্যর্থতা থেকে অনেক কিছু শেখা যায়। এখানে দেখে নিন নকিয়া কি করেনি এবং কি করা প্রয়োজন ছিল।

হুমকি শনাক্ত করতে চোখ-কান খোলা রাখুন: আইফোন এবং অন্যান্য স্মার্টফোনের ক্রমবর্ধমান বাজার যদি নকিয়া হুমকি বলে গণ্য করত, তবে তাদের আরো ব্যাপক প্রস্তুতি থাকত। এটা না করাতে নতুনরা এসেই তাদের বিশাল সাম্রাজ্য নিমিষেই ধসিয়ে দেয়।

পরিবর্তন আনতে হবে: আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েডের মতো শক্তিশালী অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে লড়তে হলে নিজেকে আপগ্রেড করতেই হবে। কিন্তু নকিয়া তাদের সিম্বিয়ানেই থেকে যায়। অথচ এই অপারেটিং সিস্টেমটি পুরনো ধাঁচের। কাজেই আপগ্রেড করতে হবে। এটা স্বাভাবিক। প্রতিযোগিতায় আসতে হলে অবশ্যই নিজের অবস্থা স্বাস্থ্যকর হতে হবে। নিজেল দুর্বলতা বুঝতে হবে।

সমালোচনা গ্রহণ করতে হবে: ইনসিড নলেজ নামের এক জার্নালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, নকিয়ার উচ্চপর্যায়ের নেতারা কানে কথা তুলতে চান না। অথচ নকিয়ার আগের সিস্টেম নিয়ে টিকে থাকার সিদ্ধান্তের ব্যাপক সমালোচনা ও পরামর্শ প্রদান করেন বহু বিশেষজ্ঞ। কিন্তু কোনো কথাই শোনেনি নকিয়া। ভুলটা বোঝাই গেল। সব ধরনের সমালোচনা অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করতে হবে।

উদ্ভাবনে মনোযোগ দিন: ব্র্যান্ডরা সবসময় উদ্ভাবন দিয়ে এগিয়ে থাকতে চায়। প্রত্যেকের নতুন কিছু আবিষ্কার ও নয়া দক্ষতার ওপর টিকে থাকতে হয়। নকিয়া যখন নিজেদের টার্গেট পূরণ নিয়ে ব্যস্ত, অন্যান্য ব্র্যান্ড তখন মানুষের চাহিদা পূরণে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিযোগীদের সঙ্গে তাল মেলাতেও নকিয়া গা করেনি। কাজেই খুব দ্রুত অনেক পিছিয়ে পড়ে তারা। প্রতিষ্ঠানটি অন্যের তুলনায় নিজের মধ্যে নতুন গুণের সমাবেশ ঘটাতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে অন্তত ইতিবাচক হতে হয়। অর্থাৎ অন্যরা কি করছে বা এদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে নিজেদের এগিয়ে যাওয়ার রাস্তাটা অন্তত খুঁজে বের করার ইচ্ছাটা থাকতে হবে।

২৬ অক্টোবর, ২০১৭ ১৬:৩১ পি.এম