nagorikkanthanagorikkantha

আমেরিকান মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ লিজ রায়ান প্রায় ৩৬ বছর ধরে চাকরির ইন্টারভিউ বোর্ডে উপস্থিত থেকে নানা ধরনের কর্মী নিয়োগ করে আসছেন। লিজের বয়স যখন ২০ বছর তখন তিনি একটি ছোট আমেরিকান কম্পানির অনভিজ্ঞ সুপারভাইজার। একদিন তাঁর বস তাঁকে নতুন কর্মী নিয়োগের জন্য বোর্ড গঠন করতে বলেন। যদিও এ বিষয়ে লিজের কোনো রকম প্রশিক্ষণ ছিল না। নিজের আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে লিজ সে পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হন।

এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় তিনি লক্ষ্য করেছেন, চাকরি প্রার্থীরা প্রয়োজন ছাড়াও অনেক অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় কথা ইন্টারভিউ বোর্ডে বলে থাকেন। সাধারণত নার্ভাস হয়ে যাওয়ার কারণেই প্রার্থীরা এমনটি করে থাকেন। সেরকম ১০টি সমস্যার কথা আজ বলা হলো যেগুলো ইন্টারভিউ বোর্ডে মোটেও উল্লেখ করা উচিত নয়।

আর্থিক সমস্যা: চাকরির সঙ্গে আর্থিক ব্যাপার, বেতন- এসব বিষয় জড়িত থাকবেই, কিন্তু ইন্টারভিউ দিতে বসে নিজের আর্থিক অনটনের কথা প্রকাশ করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আবার আর্থিক অনটন নেই শুধুমাত্র স্মার্ট জীবনযাপনের জন্য চাকরি করতে চাই- এমন কথাও চাকরির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আপনার আর্থিক অবস্থা নিয়ে চাকরিদাতার কোনো মাথাব্যথা নেই। তারা চায় একজন যোগ্য প্রার্থী।

ব্যক্তিগত সম্পর্ক: অনেক প্রার্থীর ক্ষেত্রেই দেখা যায় তারা তাদের পারিবারিক অবস্থান, জীবন সঙ্গীর অবস্থান নিয়ে ইন্টারভিউ বোর্ডে কথা বলতে ভালবাসেন। কিংবা তার চাকরি খোঁজার পেছনে কী কারণ রয়েছে সেগুলো বিস্তারিত বলেন। যেমন- কোনো নারী প্রার্থী বলতে চান তার স্বামী বেকার ছিলেন, তিনি নিজে চাকরি করে স্বামীকে তার দুঃসময়ে সাপোর্ট দিয়েছিলেন কিন্তু আজ সেই স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ায় তিনি খুব আপসেট হয়ে পূর্বের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। এসব বলে মাঝে মাঝে বোর্ড সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায় ঠিকই, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চাকরিদাতারা এতে বিরক্ত বোধ করেন এবং নিজের ব্যক্তিগত কষ্টের কথা বলে নাটক করছেন বলে মনে করেন।

কোনো আইনি জটিলতা: বেশিরভাগ বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রেই প্রার্থীর নামে কোনো কেস রয়েছে কিনা কিংবা পূর্ববর্তী চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো আইনি জটিলতা রয়েছে কিনা- সেসব বিষয় কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না। কাজেই আগ বাড়িয়ে আইনি জটিলতাসংক্রান্ত বিষয় প্রকাশ করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

কোনো আঘাত বা অসুস্থতাজনিত সমস্যা: আপনি যদি অসুস্থতা বা আঘাতজনিত কারণে পূর্ববর্তী চাকরি থেকে কিছুদিন বিরতি নেন তবে তা নতুন চাকরির ইন্টারভিউয়ের সময় প্রকাশ না করলেও চলবে। পূর্বে দীর্ঘদিনের কোনো ছুটির কথা বললে নতুন চাকরিদাতা ভেবে নিতে পারে যে আপনি অসুস্থতার দোহাই দিয়ে বড় ধরনের ছুটি কাঁটাতে অভ্যস্ত। তাই সব সমস্যা ইন্টারভিউয়ের সময়ই বলার দরকার নেই। চাকরিতে যোগদানের পর আপনি অসুস্থতাজনিত ছুটির কথা উপস্থাপন করার অনেক সুযোগ পাবেন।

পরিবার পরিকল্পনার কথা: সাধারণত দেখা যায় গর্ভবতী নারীদেরকে অনেক কম্পানিই নিয়োগ দেওয়া থেকে বিরত থাকে এটা ভেবে যে, নিয়োগের পরই তো তিনি দীর্ঘ মাতৃত্বকালীন অবকাশ যাপন করবেন, যদিও গর্ভবতী হওয়ার কারণে চাকরিতে নিয়োগ না দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। কিন্তু অনেক নিয়োগ কর্তাই এ আইন সম্পর্কে অবগত নন। সেজন্য বাহ্যিকভাবে যদি বোঝা না যায় তবে নিজে থেকে আপনার শারীরিক অবস্থার কথা ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রকাশ না করাই ভালো। আবার আপনার ছোট বাচ্চা রয়েছে কিনা কিংবা আপনি কোনো সন্তান দত্তক নিয়েছেন কিনা- এসব বিষয়ে কোনো তথ্য না দেওয়াই ভালো।

আপনার ধর্মীয় অনুভূতি: কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা নির্দিষ্ট ধর্মাবলম্বী ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়ে থাকে। সেসব ব্যতিক্রম প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোথাও ধর্মীয় অনুভুতি নিয়ে আলোচনা না করাই ভালো। আপনি কোন ধর্মের, সেটা আপনার নাম দেখে অথবা জীবন বৃত্তান্ত দেখেই কর্তৃপক্ষ বুঝে নেবে।

রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি: আপনি কোন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী সেটা যেন আপনার কোনো কথাতেই প্রকাশ না হয় সে ব্যাপারে যত্নশীল হতে হবে। কারণ ধর্ম ও রাজনীতি দুটোই খুব সংবেদনশীল বিষয়।

দায়বদ্ধতা বা অঙ্গীকারনামা: আপনি যে পদের জন্য আবেদন করেছেন সেই পোস্টের দায়িত্বসমূহ কী কী তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেই উল্লেখ করা থাকে। এর বাইরে অতিরিক্ত কোনো কাজে আপনি পারদর্শী কিনা, এসব কোনো অঙ্গীকারনামা নিয়োগকর্তা না চাইলে নিজ থেকে দেওয়ার দরকার নেই। অন্যদিকে, আপনি কী কী কাজে আগ্রহী নন সেটাও ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রকাশ করার কোনো প্রয়োজন নেই ।

পূর্বের চাকরির বস সম্বন্ধে অভিযোগ: আপনার ইন্টারভিউ বোর্ডের পরিবেশ যতই বন্ধুত্বপূর্ণ হোক না কেনো কোনো কারণেই সেখানে আপনার পূর্বের বসের সম্বন্ধে কোনো সমালোচনা করবেন না, হতে পারে আপনার আগের বস আপনাকে মূল্যায়ন করেননি কিংবা তিনি অসৎ, দুশ্চরিত্র, কপট যেগুলো নিয়ে আপনি বন্ধুমহলে অনেক হাসি তামাশা করেন, সেগুলো ইন্টারভিউ বোর্ডে উল্লেখ করার দরকার নেই।

তোতলানো থেকে নিজেকে বিরত রাখা: অনেক প্রার্থীই ইন্টারভিউয়ের আগের রাতে নীরব কোনো স্থানে বসে কল্পনায় ভাইভা বোর্ডের চিত্র এঁকে সেখানে কীভাবে প্রবেশ করবেন, কীভাবে সম্বোধন করবেন, প্রশ্নকর্তা কী কী প্রশ্ন করতে পারেন- এ নিয়ে বিচলিত হন। এ বিষয়ে লিজ রায়ানের পরামর্শ হলো আগের রাতে খোলা বাতাসে কিছুটা সময় অবস্থান করতে হবে, হাঁটাহাঁটি করতে হবে, মনকে সতেজ রাখতে হবে। কোনোমতেই মনকে উত্তেজিত করা যাবে না। কম্পানি সম্বন্ধে প্রয়োজনীয় তথ্যদি অনুশীলন করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আপনি ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রবেশ করলে অযথা তোতলামো হবে না এবং আপনি স্মার্টভাবে সফলতা অর্জন করতে পারবেন।

২৬ অক্টোবর, ২০১৭ ১৬:৩৮ পি.এম