nagorikkantha

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর ভারতের হলদিবাড়ি থেকে বাংলাদেশের চিলাহাটী পর্যন্ত রেল যোগাযোগ পুনরায় চালুর লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে সে দেশের রেল মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি ভারতের গনমাধ্যমে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। পত্রিকার সুত্র থেকে জানা যায়, নতুন রেলপথ স্থাপনের জন্য শিলিগুড়ির একটি ঠিকাদার সংস্থা কাজ করছে। সম্প্রতি তারা হলদিবাড়ির খালপাড়ায় তাদের কাজ শুরু করেছে।জানা যায়, বিভিন্ন কাজের জন্য মোট ৫টি প্রতিষ্ঠান কাজের নির্দেশ পেয়েছে।শেষ পর্যন্ত ভারতের হলদিবাড়ি থেকে বাংলাদেশের চিলাহাটী পর্যন্ত রেল যোগাযোগের কাজ শুরু হওয়ায় খুশি ভারতের জলপাইগুড়ি ও বাংলাদেশের নীলফামারী জেলাবাসী।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের বৃহত্তম নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাটি অসম বেঙ্গল রেলওয়ের উদ্যোগে ১৮৭০ সালে স্থাপন করা হয়েছিল। ওই সময় ভারতের শিলিগুড়ি থেকে ছেড়ে হলদিবাড়ি হয়ে বাংলাদেশের নীলফামারীর চিলাহাটি ও সৈয়দপুর এবং দর্শনা দিয়ে দার্জিলিং মেইল ট্রেনটি কলকাতা চলাচল করতো। এ ছাড়া চিলাহাটি থেকে হলদিবাড়ি ও জলপাইগুড়ি পর্যন্ত চলাচল করতো একটি পাসপোর্ট ট্রেন। চালু ছিল স্থলবন্দর ও চেকপোস্ট। কিন্তু পাক-ভারত যুদ্ধের পর চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথ ও স্থলবন্দর বন্ধ হয়ে যায়। এরপর উভয় দেশ থেকে স্থাপিত রেলপথটি ১৯৬৫ সালে উঠিয়ে ফেলা হয়েছিল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন করে রেল রুটটি চালুর উদ্দোগ নেয়। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ অংশে প্রায় ৭ কিলোমিটার ও ভারতের হলদীবাড়ি অংশে ৪ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার রেলপথ পুনরায় স্থাপনের লক্ষে ২০১৬ সালের ৮ মে থেকে সপ্তাহ ব্যাপী বাংলাদেশের অংশের এবং চলতি বছরের গোড়ার দিকে ভারতের অংশের জরিপ কাজ শেষ করা হয়। রেলওয়ে সুত্র মতে বর্তমানে খুলনার মংলা, ঢাকা ও রাজশাহী থেকে সরাসরি ব্রডগেজের রেলপথ চালু রয়েছে নীলফামারী চিলাহাটি সীমান্তের স্টেশন পর্যন্ত। উভয় দেশের অংশের ১১ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার রেললাইন পুনরায় স্থাপন করা হলে ভারতের হলদীবাড়ি হয়ে জলপাইগুড়ি নিউ জলপাইগুড়ি ও শিলিগুড়ি সাথে ফের সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হবে। এখন ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী এক্সপ্রেস চলাচল করে কলকাতা-গেদে-দর্শনা-হার্ডিঞ্জ ব্রিজ হয়ে ঢাকা। হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেল পথ চালু হলে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ হয়ে ফের অতীতের পথে শিলিগুড়ি-কলকাতা রেল চলাচল শুরু হবে। সেই সাথে ঢাকা নিউ জলপাইগুড়ি (শিলিগুড়ি) ট্রেন চলাচল করবে সরাসরি।

সুত্র মতে রেলপথ স্থাপন শেষ হলে প্রথম ধাপে চলাচল করবে পন্যবাহী রেল। দ্বিতীয় ধাপে যাত্রীবাহী ট্রেন। যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে ঢাকা হতে নিউ জলপাইগুড়ি (শিলিগুড়ি) ও নিউ জলপাইগুড়ি থেকে বাংলাদেশের দর্শনা সীমান্ত হয়ে কলকাতা শিয়ালদহ পর্যন্ত ট্রেন চালানো হবে।