nagorikkanthanagorikkantha

অধিক লাভের চিন্তা করে দ্রব্য-মূল্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য-সামগ্রী জমা রাখাকে ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় ‘ইহতিকার বা মজুতদারী বলা হয়। অস্বাভাবিকভাবে মুনাফা লাভের আশায় মজুতদারী করা অভিশাপ বা গোনাহের কাজ।

ইমাম আবু ইউসুফ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘সর্ব সাধারণের কষ্ট ও ক্ষতি হয়; এমনভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আটকিয়ে রাখাই হলো মজুতদারি বা ইহতিকার।

মজুতদারী গোনাহের কাজ হওয়ার কারণ হলো- এর ফলে সমাজের অর্থনৈতিক ভারসাম্য ক্ষুন্ন হয়, দৈনন্দিন জীবনের খাবারের চাহিদা মেটাতে মানুষ হিমশিম খায়, অর্থনৈতিক হয়রানির শিকার হয়; সব শ্রেণীর মানুষ খাদ্য কষ্টে ভোগে।

এজন্য ইসলামি শরিয়ত মজুতদারীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মজুতদার ব্যক্তিকে গোনাহগার, অভিশপ্ত এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক হাদিসে মজুতদারকে গোনাহগার আখ্যায়িত করে বলেছেন, ‘পণ্যদ্রব্য আটক করে অধিক মূল্যে বিক্রয়কারী অবশ্যই পাপী।’ (বয়হাকি ও মিশকাত)

অন্য হাদিসে মজুতদারকে অভিশপ্ত ঘোষণা করে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘(অধিক মুনাফা লাভে) মূল্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি ৪০ দিন পর্যন্ত খাদ্যশস্য মজুদ রাখে, সে ব্যক্তি আল্লাহর দায়িত্ব থেকে মুক্ত এবং আল্লাহ তার প্রতি অসন্তুষ্ট। (ইবনে মাজাহ, বায়হাকি ও মিশকাত)

মজুতদার ব্যক্তি সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্টতম ব্যক্তি। হাদিসে এসেছে, ‘মজুতদার ব্যক্তি খুবই নিকৃষ্টতম ব্যক্তি। যদি নিজিসপত্রের মূল্য কমে যায়, তবে তারা চিন্তিত হয়ে পড়ে। আর যদি মূল্য বেড়ে যায় তবে তারা আনন্দিত হয়।’

অন্যায়ভাবে মানুষকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে সামাজিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দ্রব্য-সামগ্রী জমা করে রাখা যেমন গোনাহের কাজ। তেমনি এ কাজে আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে মহামারী দ্বারা শাস্তি প্রদান করেন। হাদিসে এসেছে-

‘কেউ যদি মুসলমানদের থেকে নিজেরদর খাদ্যশস্য আটকিয়ে রাখে (মজুতদারী করে) তবে আল্লাহ তাআলা তার পর মহামারী ও দারিদ্র্য চাপিয়ে দেন।’

কোনো জাতি-গোষ্ঠীর মাঝে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়া বা কৃত্রিম অভাব সৃষ্টিতে মজুতদারীর প্রভাব রয়েছে। তাই চিহ্নিত মজুতদারদেরকে প্রতিহত করা রাষ্ট্র বা সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষের সময় করণীয় সম্পর্কে আল্লামা শামী রহমাতুল্লাহি বলেন-

দুর্ভিক্ষের ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া যদি সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে, তবে বিচারক বা আদালত খাদ্যশস্য মজুতদারকে জমা করা পণ্য বিক্রির করে দেয়ার আদেশ জারি করবেন।

মজুতদার যদি নির্দেশ পালন না করে, তবে বিচারক তার খোরাকী বাবদ প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য রেখে বাকীগুলো (নিজ ব্যবস্থাপনায়) বিক্রি করে দিবেন।

যদি সাধারণ মানুষের কাছে খাদ্যদ্রব্য কেনার মতো টাকা-পয়সা না থাকে, তবে বিচারক ক্রমশ তা বণ্টন করে দিবেন। পরে তাদের হাতে খাদ্যশস্য আসলে আদালত তাদের কাছ থেকে তা আদায় করে দাতার(মজুতদার) কাছে পৌছে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন।

আর নিজস্ব জমির খাদ্যশস্যের ব্যাপারেও এ বিধান প্রযোজ্য হবে। অবশ্য কেউ যদি নিজের জমির ফসল হতে নিজের ও পরিবারের বাৎসরিক প্রয়োজন পূরণ ও ব্যয় নির্বাহের জন্য খাদ্যদ্রব্য সঞ্চয় করে রাখে; তবে ইহাতে কোনো অন্যায় হবে না।

সুন্দর সমাজ ও দেশ গঠনে অন্যায় ভাবে মজুতদারী বা কালোবাজারী করা থেকে দেশের জনগণকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। সমাজ এবং রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদেরকে এ ব্যাপারে সঠিক নজরদারি ও তদারকি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ১০:৫৪ এ.ম