nagorikkanthanagorikkantha

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটায় চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুশীলনে নামল রাজশাহী কিংস। মুশফিক, মিরাজ, ফরহাদ রেজা, জাকির হাসান সবাই জার্সি, কেডস পড়ে মাঠে নেমে গেলেও মুস্তাফিজ চলে গেলেন ফিজিও বায়েজিদ ইসলাম খানের কাছে।

সাইটস্ক্রিনের পেছনে বসে গেলেন চেয়ার নিয়ে। ফিজিও বসলেন তার সামনে। নিজের কিট ব্যাগ থেকে একে একে বের করলেন তিনটি ব্যান্ডেজ। এরপর মুস্তাফিজের পায়ে তা পেচানো শুরু করলেন। হাসিমুখে মুস্তাফিজও তা দেখতে থাকলেন।

একে একে সেখানে এলেন শফিউল ইসলাম, আবু জায়েদ রাহী ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তিনজন খুনসুঁটিতে মাতলেন। বন্ধু নাজমুল ইসলাম শান্ত মুস্তাফিজকে জিজ্ঞেস করলেন,‘কবে ফিরবি ? বোলিং করতেছিস তো…’। মুস্তাফিজ উত্তর দিলেন,‘আর একদিন…’।

মুস্তাফিজপ্রেমিদের জন্য সুখবর, ইনজুরি কাটিয়ে মুস্তাফিজুর রহমান ফিরছেন আগামী ২৫ নভেম্বর। রাজশাহীর জার্সিতে খেলবেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে। গতবারের রানার্সআপ দলটি এবারের বিপিএলে এখনও ভালো কিছু করতে পারেনি। ৭ ম্যাচে জিতেছে ২টিতে, হেরেছে ৫টিতে। প্লেয়ার বাই চয়েস পদ্ধতিতে দল গঠনের সময় রাজশাহী কিংস দলে প্রথম সুযোগ পেয়েই দলে ভিড়িয়েছিল মুস্তাফিজুর রহমানকে।

কিন্তু প্রথম ৭ ম্যাচে মুস্তাফিজের সার্ভিস মিস করে রাজশাহী। বামপায়ের গোড়ালির ইনজুরিতে মুস্তাফিজ দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে ছিটকে যান। এক মাস মাঠের বাইরে থাকার পর মুস্তাফিজ ফিরছেন ২২ গজের ক্রিজে।

রাজশাহীর ফিজিও বায়েজিদ ইসলাম অনুশীলন শেষে বলেন, ‘মুস্তাফিজ রাজশাহীর দলের সাথে ৮ তারিখের পর রয়েছে। প্রাথমিক পুর্নবাসন শেষ হওয়ার পর আমরা তার সবগুলো পুর্নবাসনের কাজ শেষ করেছি। আজকে নিয়ে চারটা সেশনে ও (মুস্তাফিজ) পুরো গতিতে বোলিং করছে।’ মুস্তাফিজ বোলিং করে নিজেও খুশি। আজ ৫ ওভার বোলিং করেছে পূর্ণাঙ্গ গতিতে। নেটে তার বল খেলেছেন মুশফিকুর রহিম, জেমস ফ্রাঙ্কলিন ও সামিত পাটেল। সব মিলিয়ে মুস্তাফিজুর রহমান রয়েছেন দারুণ ছন্দে।

নেটে বোলিং শেষে ফিল্ডিং অনুশীলনে যাওয়ার আগে হাসিমুখে মুস্তাফিজ বলেন, ‘বোলিংয়ে কোনো সমস্যা নেই। সবকিছু ঠিকঠাক। ৫ ওভারের মতো ফুল রিদমে বোলিং করছি। থাম্বস আপ।’ বলার অপেক্ষা রাখে না মাঠে ফিরতে মুখিয়ে মুস্তাফিজ নিজেও। তার উন্মাদনা, অনুশীলনে তার উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

ফিজিও তাকে নিয়ে যথেস্ট আত্মবিশ্বাসী। আত্মবিশ্বাসী কন্ঠে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ নেই। যতটুকু সাপোর্ট করার প্রয়োজন ততটুকু করা হয়েছে। যেসকল টেস্ট করার দরকার ছিল সেগুলো করা হয়েছে এবং সে ভালোমত ওগুলো মেক আপ করতে পেরেছে। যদি কোনো অভিযোগ থাকত তাহলে বোঝা যেত তার সমস্যা আছে।’

মুস্তাফিজ শেষ বিপিএল খেলেছিল ২০১৫ সালে। ঢাকার হয়ে মাঠ মাতানোর পর ২০১৬ সালে কাটারমাস্টার ছিলেন ঢাকার শুভেচ্ছাদূত হিসেবে। বিপিএলের গত আসর খেলতে পারেননি কাঁধের অস্ত্রোপচারের জন্য। মুস্তাফিজের অপেক্ষা এখন শুধুই ২৫ নভেম্বরের।

২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ১৬:২৮ পি.এম