nagorikkanthanagorikkantha

ঘুম হচ্ছে না ঠিকমতো? এর অনেকগুলো প্রতিকারের একটি হলো সূর্যের আলো। বিষণ্ণতায় ভুগছেন? ডাক্তার বলবেন আপনি হয়তো রোদে যথেষ্ট সময় কাটাচ্ছেন না। কোনো কারণ ছাড়াই র‍্যাশ ভরে গেছে ত্বক? ডাক্তার বলবেন সেটাও হতে পারে সূর্যের আলোর কারণেই। পৃথিবীটাতে আলো ছড়িয়ে যাওয়া সূর্য আমাদের শরীরের ওপর রাখে এমনই অদ্ভুত কিছু প্রভাব। চলুন জেনে নিই বিস্তারিত-

ত্বকে লালচে ছোপ
বছরের পর বছর সূর্যের আলোতে ত্বক অরক্ষিত রাখলে একটা সময়ে পাকাপাকিভাবে ত্বকে লালচে ছোপ ছোপ দাগ পড়তে পারে। বয়সের সাথে সাথে সূর্যালোক আপনার ত্বক পাতলা করে দেয় এবং রক্তনালীর আশেপাশের এলাকায় কোষগুলোকে ঢিলে করে দেয়। ফলে মূলত ঘাড় এবং গালের আশেপাশে লালচে ছোপ পড়তে পারে। এই প্রক্রিয়াটি স্থায়ী এবং একবার এমন ছোপ দেখা দিলে ত্বক থেকে তা দূর করার উপায় থাকে না।

ভালো ঘুম
সূর্যের আলো অর্থাৎ প্রাকৃতিক আলো আমাদের শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম বা দেহঘড়ির স্পন্দন ঠিক রাখে। এর ফলে আমরা সহজে ঘুমাতে পারি, স্বাভাবিক সময়ে ঘুম আসে এবং ঘুম থেকে উঠতে পারি আমরা। আর ঘুমটাও হয় খুব তৃপ্তির।

ফুরফুরে মেজাজ
আমাদের শরীরটা এমনভাবে তৈরি যাতে সূর্যের আলোয় সময় কাটালে আমাদের মন থেকেও সরে যায় মেঘের ছায়া। সূর্যের আলোয় বেটা-এন্ডরফিন নামের হরমোন নিঃসৃত হয় শরীরে। এটা আমাদেরকে একটা ভালোলাগার অনুভূতি দিতে সক্ষম। ব্যায়ামের সময়েও এই হরমোন নিঃসৃত হয়। হুট করে মন ভালো করে দেবার জন্য সূর্যের আলোয় সময় কাটানো ভালো হতে পারে। কিন্তু বেশি সময় এই কাজটি করলে আবার আসক্তিও সৃষ্টি হবার সম্ভাবনা থাকে।

ভিটামিন ডি-এর অভাব পূরণ
এটা সবাই জানেন যে ভিটামিন ডি এর অভাব পূরণে সূর্যের আলোর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, অস্টিওপোরোসিস এবং সাধারণ ফ্লু এর ঝুঁকি কমাতে সূর্যালোক কার্যকরী। কিন্তু খুব বেশি সূর্যালোক আবার ভিটামিন ডি এর পরিমাণ কমাতে পারে।

দৃষ্টিশক্তির দুর্বলতা
বয়সের সাথে সাথে বেশীরভাগ মানুষের দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হতে থাকে। কিন্তু সূর্যের আলোতে বেশি সময় থাকলে তা হতে পারে কম বয়সেই। ৪০ বছর বয়সের পর সূর্যের আলোতে ত্বকের ক্ষতির পাশাপাশি চোখের ক্ষতিও হয় সহজেই। ফলে ছানি পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এর থেকে রক্ষা পেতে সানগ্লাস ব্যবহার করা জরুরী।

হঠাৎ র‍্যাশ
কারও কারও একটি কন্ডিশন থাকে যাকে বলে পলিমর্ফিক লাইট ইরাপশন। তাদের শরীরে সূর্যালোকের প্রভাবে হঠাৎ করেই র‍্যাশ হতে পারে। এর চাইতেও খারাপ অবস্থা হতে পারে পরফিরিয়া নামের একটি রোগের ক্ষেত্রে।

বুড়িয়ে যাওয়া ত্বক
বয়সের সাথে ত্বকে আসে বিভিন্ন পরিবর্তন যেমন কুঞ্চন, বলিরেখা ইত্যাদি। এসব চিহ্ন আরও আগেই ত্বকে পড়তে পারে যদি মানুষটি সূর্যের আলোতে বেশি সময় কাটান। সানস্ক্রিনের ব্যবহার এবং ছাতা ব্যবহার করলে বা চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি পরলে এসব ক্ষতি কমানো যেতে পারে।

ব্রণের প্রকোপ কমানো
পরিমিত পরিমাণে সূর্যালোক আপনার ত্বকে ব্রণের উপদ্রব কমিয়ে আনতে পারে। সোরিয়াসিসের প্রকোপ কমাতেও এটি সক্ষম। তবে খুব বেশি সূর্যালোক এক্ষেত্রেও ভালো নয়, তা আবার বাড়াতে পারে স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি।

ফোঁটা ফোঁটা বাদামি দাগ
কিছু কিছু ফলের রস, গাছপালার রস এমনকি কিছু পারফিউম ত্বকে থাকলে এবং এর ওপর সূর্যের আলো পড়লে দেখা দিতে পারে ফোঁটা ফোঁটা বাদামি দাগ। কয়েক মাসের মাঝে অবশ্য এই দাগ চলে যাবে।

লম্বা আয়ু
ধূমপান করলে যেভাবে আয়ু কমে, সূর্যের আলো এড়িয়ে চললেও তেমনিভাবেই কমতে পারে আপনার আয়ু! সূর্যের আলোর সংস্পর্শে থাকার কারণে কিছু রোগের ঝুঁকি কমে যায়। এর ফলেই আয়ু বাড়ে।

দেখলেন তো সূর্যালোকের কয়েকটি উপকারিতা। এরপরেও মনে রাখবেন, সূর্যালোকে যাবার সময়ে নিজেকে নিরাপদ রেখেই যাবেন। ব্যবহার করুন সানস্ক্রিন এবং সানগ্লাস। নয়তো সানবার্ন, এমনকি স্কিন ক্যান্সার দেখা দিতে পারে আপনারও।

২৬ নভেম্বর, ২০১৭ ১৩:৪৩ পি.এম