nagorikkanthanagorikkantha

শেষ মুহুর্তে এসে অন্তত একটি শুভ কাজ করে নিজেদের বাঁচার রাস্তা তৈরির জন্য সরকারকে পরামর্শ দিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দাম্ভিকতা ছেড়ে বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে আলাপ-আলোচনায় অংশ নিয়ে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের করুন।

মঙ্গলবার দুপুরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স হলে ‘দেশ চায় স্বাধীনতা, জাতি চায় মুক্তি’ শীর্ষক বিশেষ জাতীয় কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এমন পরামর্শ দেন তিনি।

জাগপা আয়োজিত এ কাউন্সিলে সভাপতিত্ব করেন জাগপার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক রেহানা প্রধান। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ।

মির্জা ফখরুল বলেন, দাম্ভিকতা ছেড়ে সরকারকে শুভ পথে আসার আহ্বান জানাই। মানুষের কল্যাণের জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে আলাপ আলোচনায় আসার কথা বলেছেন সে পথে আসুন। বিএনপির জন্য নয়, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আমরা আলাপ আলোচনার কথা বলছি। গণতন্ত্রের জন্য আমরা আলোচনার কথা বলছি।

“নির্বাচনের আগে পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার দিতে হবে। মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সংবিধানের দোহাই না দিয়ে শেষ বেলায় এসে অন্তত একটা শুভ কর্ম করে নিজেদের বাঁচার রাস্তা তৈরি রাখুন।”

বিডিআর বিদ্রোহের মামলার রায়ের আগে দেয়া আদালতের পর্যবেক্ষণ নিয়ে ফখরুল বলেন, রায় নিয়ে কিছু বলতে চাই না। তবে পর্যবেক্ষণ নিয়ে কথা বলবো। বিচারকরাও স্বীকার করেছেন, গোয়েন্দা ব্যর্থতার দায় ছিলো। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৫৭ জন সেনাকে হত্যা করা হয় সেদিন।

“এটি কি নতুন সরকারকে ব্যর্থ করে দেয়ার চেষ্টা ছিলো নাকি বাংলাদেশকে ব্যর্থ করে দেয়ার চেষ্টা? এতে তারাই সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে যারা এদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে দিতে চায়, যারা বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।”

ফখরুল প্রশ্ন রাখেন, কেন গোয়েন্দারা ব্যর্থ হয়, কেন ব্যবস্থা নিতে দেরি হলো? তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হলো না কেন এখনো? এসব জানতে হবে। অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে ব্যর্থ করে দেয়ার চেষ্টা চলছে।

প্রধান বিচারপতি নিয়োগ না দেয়া বিষয়ে ফখরুল বলেন, আজকে এতোদিন হয়ে গেলো প্রধান বিচারপতি নেই। আমাদের কমন সেন্স বলে, এখানে একটা গুরুতর সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে।

“এ সরকার একদলীয় সরকার করতে চায়। ঘোষণা না দিয়ে তা করছে। তিনটি স্তম্ভ সচেতনভাবে ভেঙে দিয়েছে। কারণ তারা জানে তা অক্ষত থাকলে তাদের অস্তিত্ব থাকবে না”-বলেন ফখরুল।

এমতাবস্থায় জাগপার তরুণদের শফিউল আলম প্রধানের প্রেরণায় আন্দোলন-সংগ্রামে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ফখরুল।

প্রধান আলোচকের বক্তৃতায় অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র আরো জোরদার হচ্ছে। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য কিছু শর্ত পূরণ না করলে নির্বাচন করার দরকার হবে না।

তিনি শর্তগুলো উল্লেখ করে বলেন, আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। এটি না করে কোন নির্বাচন হবে না। জাপান, ভারত কিংবা বৃটেনেও নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া হয়। পৃথিবীতে ১৬৫টি রাষ্ট্রে পার্লামেন্টে নির্বাচন হলে বাধযতামূলকভাবে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন আয়োজন করা হয়।

দ্বিতীয় শর্ত বলতে গিয়ে এমাজউদ্দীন বলেন, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় ২৫ হাজার মামলা দেয়া হয়েছে। এই মামলার শিকার ৩-৪ লাখ মানুষ। কারো কারো একশ মামলাও আছে। যদি নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে হয় তাহলে মামলা হয় তোলে নিতে হবে, আর জরুরি মামলা হলে অন্তত নির্বাচন পর্যন্ত স্থগিত রাখতে হবে। এটি না হলে নির্বাচন কাকে নিয়ে হবে? গতবার ৪ কোটি মানুষ ভোটাধিকার ঘেকে বঞ্চিত হয়। এমন নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।

তৃতীয় শর্ত হিসেবে তিনি বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে হলে একটা গণতান্ত্রিক আবহ তৈরি করতে হবে। নিরপেক্ষতার আবহ তৈরি করতে হবে। এটি প্রধামন্ত্রীকে করতে হবে এবং বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন করতে হবে। যারা নিরপেক্ষ তাদের নিয়ে এই সরকার গঠন করে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

“এ চারটি শর্ত পূরণ করলে তবে অর্থবহ নির্বাচন হবে। আর তা না হলে নির্বাচনের দিকে যাওয়ার কোন দরকার পড়ে না”-বলেন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন।

-চ্যানেল আই অনলাইন

২৮ নভেম্বর, ২০১৭ ১৭:০৫ পি.এম