nagorikkanthanagorikkantha

উত্তর কোরিয়ার ইতিহাসে সর্বোচ্চ উচ্চতায় শক্তিশালী আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস মাট্টিস জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়া তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উচ্চতায় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে হুমকি সৃষ্টি করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, বুধবার সকালে উত্তর কোরিয়ার ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশে ৪ হাজার ৫০০ কিলোমিটার উঁচুতে উঠেছিল এবং ৯৬০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে জাপান সাগরে গিয়ে পড়েছে।

পিয়ংইয়ং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার করার পর জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক আহ্বান করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহ্যাপকে দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘পিয়ংইয়ংয়ের নিকটবর্তী সাউথ পায়োনগান প্রদেশ থেকে পূর্ব দিকে একটি বেনামি বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া।’

উত্তর কোরিয়ার যেসব ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষায় বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, সবশেষ এই ক্ষেপণাস্ত্রটিও তেমন শক্তিশালী ও বিধ্বংসী। সেপ্টেম্বর মাসে সবশেষ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় দেশটি। ওই মাসে পিয়ংইয়ং তাদের ষষ্ট ও সবচেয়ে শক্তিশালী পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও পরমাণু কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

বুধবারের এই পরীক্ষার পর ইস্যুটি নিয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি সভা ডেকেছে।

জেমস মাট্টিস বলেছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণের পর তাদের আগের যেকোনোটির চেয়ে বেশি উচ্চতায় পৌঁছেছে। তিনি দাবি করেছেন, তারা এমন সব বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে, যেগুলো বিশ্বের সর্বত্র হুমকি সৃষ্টি করছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশে থাকা অবস্থাতেই এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করা হয়। প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

জাপানি ও মার্কিন বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র স্বাভাবিকভাবে উৎক্ষেপণ করলে তা যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আঘাত করতে পারবে। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, উত্তর কোরিয়া এখন এমন সব আইসিবিএম বানাতে সক্ষম, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের যেকোনো স্থানে আঘাত করতে সক্ষম। এর মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়ার লক্ষ্যও পূরণ হয়েছে।

জাপানের কর্মকর্তারা বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোঁড়ার পর আকাশে ৫০ মিনিট ছিল এবং জাপানের উত্তর উপকূল থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে পড়ে।

জাপান জানিয়েছে, তারা উত্তর কোরিয়ার এই উসকানিমূলক আচরণ মানবে না। দক্ষিণ কোরিয়া এর নিন্দা জানিয়েছে এবং নিজেদের একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে জবাব দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বলেছে, এটি উত্তর কোরিয়ার সংঘটিত আবারো একটি অগ্রহণযোগ্য কাজ। জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, এটি একটি বেপরোয়া কাজ।

তথ্যসূত্র : বিবিসি অনলাইন

২৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১৫:৩৩ পি.এম