nagorikkanthanagorikkantha

ছেলে তারেক রহমানের প্রশংসা করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, কিছু পাওয়ার জন্য নয়, দেশের মানুষকে কিছু দিতে কাজ করছেন তিনি।

শনিবার রাতে গুলশানে নিজের কার্যালয়ে তারেক রহমানকে নিয়ে লেখা তিনটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ সব সময় জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারকে ভালোবাসত। সেজন্য আমি এদেশের মানুষের কাছে চির কৃতজ্ঞ।

“জিয়াউর রহমানের সেই রক্তই তারেক রহমানের গায়ে, সেই রক্তই ছিল আরাফাত রহমানের গায়ে। তারা নিজেরা কিছু পাওয়ার জন্য নয়, দেশের মানুষকে কিছু দেওয়ার জন্য, দেশের সম্মান বৃদ্ধির জন্য কাজ করেছে, করছে।”

গত নয় বছর ধরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে লন্ডনে বসবাসরত তারেকের ‘দেশপ্রেম’ বোঝাতে বিএনপি প্রধান বলেন, “তারেক রহমান দেশের সম্মান বৃদ্ধির জন্য চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখনও বাংলাদেশের যখনই কেউ যায়, নেতা-কর্মী অথবা বড় কেউ গেলে তাদের সাথে দেখা করে। তাদের কাছ থেকে দেশ সম্পর্কে জানতে চায়।”
সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৭ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক মাস পর আদালত থেকে জামিন নিয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য যান তারেক রহমান। এরপর থেকে সেখানেই আছেন তিনি।

মুদ্রাপাচারের একটি মামলায় গতবছর তারেক রহমানকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয় হাই কোর্ট। এছাড়া শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টাসহ দুর্নীতি, রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানির অভিযোগে আরও কয়েক ডজন মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

২০১৪ সালে লন্ডনে কয়েকটি দলীয় সভায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্যে সমালোচনার মুখে পড়েন তারেক রহমান। এ প্রেক্ষাপটে এক রিট আবেদনে সাড়া দিয়ে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে পলাতক থাকা অবস্থায় তারেকের বক্তব্য বিবৃতি সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে প্রচার বা প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় হাই কোর্ট।

তারেক রহমান (ফাইল ছবি) তারেক রহমান (ফাইল ছবি) এই নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, “মাঝে মাঝে যে বক্তব্যগুলো দেয়, সেই বক্তব্য থেকে আপনারা বুঝতে পারেন যে তারেক রহমান কতটুকু সত্য কথা বলছে। তার এই সত্য কথার জন্য আজকে এই সরকার সেই সত্য কথা যাতে প্রচার না হয়, সেজন্য তার বক্তব্য প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে।”
তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “কতগুলো পত্রিকা আছে অন্যায়ভাবে তারেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। যারা ওই পত্রিকাগুলো করছেন তারাই নিজেরা নিজেদের চরিত্রটা বিশ্লেষণ করে দেখবেন যে তারা কী জিনিস।

“তারেক রহমান আমার ছেলে। তার কিছু পাবার নেই, শুধু কিছু দেবারই আছে মানুষের জন্য। সেজন্য সে কাজ করে যাচ্ছে। আপনারা সবাই তার জন্য দোয়া করবেন যাতে সে সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে, দেশের মানুষের মাঝে ফিরে আসতে পারে। এই দোয়া সবাই করবেন।”

‘ডেমোক্রেটিক পলিসি ফোরাম’র উদ্যোগে বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে রচিত তিনটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান হয়।

বই তিনটি হচ্ছে- ‘তারেক রহমান ও বাংলাদেশ’, ‘তারেক রহমানের রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতি’ এবং ‘দিপ্তীমান দেশনায়ক’। এগুলো লিখেছেন মাহবুবুর রহমান, সাইফুর রহমান ও সাইফুল ইসলাম।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরীর এ্যানির পরিচালনায় অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বক্তব্য রাখেন।

দলের স্থায়ী কমিটি সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, তরিকুল ইসলাম, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনুষ্ঠানের মঞ্চে ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, মীর নাসির, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নাল আবেদীন, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, আতাউর রহমান ঢালী, আবদুল কাইয়ুম, মিজানুর রহমান সিনহা, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিবউন নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, বিলকিস জাহান শিরিন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, কামরুজ্জামান রতন, নুরী আরা সাফা, আফরোজা আব্বাস, শিরিন সুলতানা, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আজিজুল বারী হেলাল, মীর সরফত আলী সপু, এবিএম মোশাররফ হোসেন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, তাজমেরী এস ইসলাম, মামুন আহমেদ, তাহমিদা আখতার টফি এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুল ইসলামসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 

০৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১০:২৭ এ.ম