nagorikkanthanagorikkantha

ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস মিয়ানমার সফরে ভুলক্রমেও ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি।

কিন্তু কেন তার এই শব্দটি এড়িয়ে যাওয়া? সম্প্রতি সে ব্যাখ্যাই দিয়েছেন তিনি।

শনিবার তিনি জানান, রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করে তিনি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করতে চাননি।

শনিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি সে শব্দটি যদি বলতাম, তাহলে আমি দরজা বন্ধ করে দিতাম। আমি এ সম্পর্কে যা ভাবছি, তা সবারই জানা। ’

পোপ বলেন, তিনি মিয়ানমার সফরে বেশ কিছু একান্ত বৈঠক করেছেন। এ বৈঠকগুলোর মূল্য রয়েছে। তবে তিনি যদি আগেই রোহিঙ্গা শব্দ উচ্চারণ করতেন তাহলে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এসব বৈঠকের পথ বন্ধ করে দিত।

এর আগে জানানোহয়, মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, সংখ্যালঘু ক্যাথলিকদের সুরক্ষা আর রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন জোরদারের আশঙ্কা থেকেই পোপ ফ্রান্সিস রাখাইন রাজ্যের নিপীড়িত ওই জনগোষ্ঠীর নাম উচ্চারণে সমর্থ হননি।

রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ না করাকে মিয়ানমারের শক্তিশালী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এক সতর্ক কূটনৈতিক পদক্ষেপ আখ্যা দিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

অবশ্য রোহিঙ্গাদের পক্ষে মানবিক আবেদন জানাতে গিয়ে চলতি বছরেই দুই দুইবার রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করেছেন পোপ ফ্রান্সিস।

রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ না করতে মিয়ানমার সফর শুরুর আগেই কার্ডিনালের পক্ষ থেকে পোপকে সতর্ক করা হয়েছিল। এমনকি শব্দটি উচ্চারণ করলে ব্যবস্থা নেয়ারও হুমকি দিয়েছিল উগ্র বৌদ্ধ সংগঠনগুলো। প্রটোকল ভেঙে প্রথমদিনেই পোপকে বাধ্য করা হয়েছিল সেনা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসতে।

ভ্যাটিকান মুখপত্র ক্রাক্স নিউজের মঙ্গলবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাংয়ের সঙ্গে দেখা করতে বাধ্য করা হয়েছে পোপ ফ্রান্সিসকে। ভ্যাটিকান মুখপত্রের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিয়ানমারের কার্ডিনাল চার্লস মং বো’র নির্দেশনা মেনেই তিনি শীর্ষ সামরিক নেত্বত্বের সঙ্গে গতকাল সোমবারের আকস্মিক সেই ১৫ মিনিটের অনির্ধারিত বৈঠকে মিলিত হন। মিয়ানমারের কার্ডিনাল নিজেও এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার নেপিদোতে পোপ তার মিয়ানমার সফরের মূল ভাষণ দেন। সেই ভাষণে সরাসরি রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেননি তিনি। বিবিসির এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে প্রতিবেদক জোনাথন ফিশার বলেন, মঙ্গলবারের ভাষণে রোহিঙ্গা শব্দটি বর্জন করে কট্টরপন্থী বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া এবং অং সান সু চি’র অস্বস্তি ঠেকাতে পেরেছেন পোপ।

-সিএনএন

০৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৬:৫৬ পি.এম