nagorikkantha

নিজের শরীরই ভালো নেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) একমাত্র শরীর চর্চা কেন্দ্রের ।

ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে শরীর চর্চা কেন্দ্রের মূল ভবনটি। ভবনের বিভিন্ন স্থানেই ফাটল ধরেছে। দেবে গেছে বেশ কিছু অংশ। খসে পড়ছে সিলিং। সঙ্কট রয়েছে আনুসাঙ্গিক যন্ত্রপাতির। এখন এভাবেই দাঁড়িয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়াম।

শারীরিক শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জিমনেসিয়ামে শরীর চর্চার প্রয়োজনীয় উপকরণ নেই। যে কয়েকটি উপকরণ আছে তার অধিকাংশই বিভিন্ন স্থান থেকে বিনামূল্যে সংগ্রহ করা। একটি মাল্টিজিম ও কিছু মান্দাতার আমলের যন্ত্রপাতি দিয়ে শরীরচর্চা কেন্দ্রের একটি ফিটনেস ট্রেইনিং সেন্টার চালু রয়েছে। অপরটি যন্ত্রাংশের অভাব ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন। যে মাল্টিজিমটি রয়েছে সেটিও অনুন্নত। সেখানে একসঙ্গে ব্যবহার করতে পারে মাত্র ৮/১০ জন।

এছাড়া সাইক্লিং মেশিন, ট্রেডমিল, ডাম্বেল, বারবেল ওয়েট যন্ত্রসহ বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। আবার ছাত্রীদের জন্য আলাদা ফিটনেস ট্রেনিং সেন্টার নেই। ফলে জিমনেসিয়ামে আসা ছাত্রীরা পড়েন নানা অসুবিধায় ।

সরেজমিন গেলে দেখা যায়, জিমনেসিয়ামটির বিভিন্ন স্থানের সিলিং খসে খসে পড়ছে। বেশ কয়েকটি পিলার ভেঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভেঙ্গে পড়তে পারে যেকোন মূহুর্তে। ফাটল ধরেছে ভবনের দেয়ালেও। দেবে রয়েছে ভেতরের মূল গ্রাউন্ডের বেশ কিছু অংশ ।

অথচ এটিই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থীর একমাত্র জিমনেসিয়াম। বর্ষাকালে ছাদ দিয়ে পানি পড়ায় বন্ধ থাকে ক্রীড়া কার্যক্রম। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বর্তমানে শরীরচর্চা কেন্দ্রে আসা শিক্ষার্থীর সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে। অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে টাকা ব্যয় করে বাইরে ভর্তি হচ্ছেন।

শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাবিবা ইয়াসমীন জিমনেসিয়ামের দুরাবস্থা স্বীকার করে বলেন, ‘এখানে শরীরচর্চা কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই। আর যেগুলো আছে সেগুলো বাজেটের অভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা যাচ্ছে না। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা প্রশাসনকে বলি কিন্তু কোন কাজ হয় না।’

০৬ জানুয়ারী, ২০১৮ ১২:৪৮ পি.এম