nagorikkantha

পাঁচ দফা দাবি আদায়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল গেটে তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার সকাল ৯টা থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনসহ সকল ভবনের ফটকে তালা দিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন। এসময় প্রশাসনিক ভবনের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এ নিয়ে দ্বিতীয় দফায় অবরুদ্ধ হলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

আইসিটি বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসির আরাফাত বলেন, দেশের অন্যা ন্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেখানে ক্রেডিট ফি দিচ্ছে ১৮ টাকা, সেখানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিজন শিক্ষার্থী দিচ্ছে ১১০ টাকা। এ ক্রেডিট ফি কমাতে হবে। পরিবহন ফি যেখানে প্রতি ছয় মাসে নেয়া হচ্ছে ৩শ টাকা তা কমিয়ে ১শ টাকা করতে হবে। হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফি ১২ হাজার ৭শ, পটুয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ হাজার ৭শ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ হাজার ও নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬ হাজার টাকা সেখানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফি নেয়া হচ্ছে ২০ হাজার টাকা। এছাড়াও পরীক্ষা ফি, ল্যাব ফি বাতিল করতে হবে।

এসব দাবি আদায়ের জন্য শনিবার বিকেল থেকে তারা আন্দোলনে নেমেছেন। শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় তাদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি বৈঠকে বসলেও দাবি মেনে না নিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে দাবগিুলো নিয়ে বিবেচনা করবেন বলে জানান। তাই শিক্ষার্থীরা পুনরায় এ আন্দোলনে নেমেছে। এ দাবিগুলাে মেনে নেয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত এ আন্দোলন চলমান থাকবে বলেও জানান তারা।

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফিসহ সকল প্রকার উন্নয়ন ফি বাতিল করা, পরীক্ষার ফি বাতিল করা, ল্যাব ফি বাতিল করা, ক্রেডিট ফি কমিয়ে ৫০ টাকা করা এবং পরিবহন ফি ১০০ টাকা নির্ধারণ করা।

এ প্রসঙ্গে মাওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত তিন বছর যাবৎ একই ফি আদায়ের মাধ্যমে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ফি বৃদ্ধি করা হয়নি। তবুও হঠাৎ শনিবার দুপুর থেকে ৫ দফা দাবি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা। সমস্যা সমাধানে শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন ও আগামী ফেব্রুয়ারিতে এ নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানানো হলেও তারা তাৎক্ষণিক দাবি মেনে নেয়ার শর্ত চাপিয়ে দেয়ায় আলোচনা ভেস্তে যায়। তবে এখনও সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

০৭ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৪:০১ পি.এম