nagorikkantha

সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যারা (বিএনপি-জামায়াত) হিংসার আগুনে মানুষ পুড়িয়ে মারে, তারা ঘৃণার আগুনে পুড়ে মরছে। তারা এখন কোন মুখে জনগণের ভোট চায়। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও এদের পরাজয় অনিবার্য।

রোববার দুপুরে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটি আয়োজিত ‘বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের খণ্ডচিত্র’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার পতনের লক্ষ্যে বিএনপি-জামায়াত জোটের হরতাল অরবোধের নামে আগুন সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে ধরেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, এরা এখনো হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। অনেক গুমের ঘটনা ঘটাচ্ছে। সেটা নিয়ে বাংলাদেশের আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। এই গুমের ঘটনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা, হঠাৎ হঠাৎ মানুষ নেই, গুম হয়ে গেছে, আবার হঠাৎ হঠাৎ রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে এখানে-ওখানে। আজকে সরকারকে বিব্রত করার জন্য, সরকারের ভাবমূর্তি দেশে-বিদেশে ক্ষুণ্ণ করার জন্য যারা নয় বছরে আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে, তারা আজকে সিরিয়াল খুন ঘুমের ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। তাদের এক নেতা সুইডেনে বসে এসব করছে বলে পত্র-পত্রিকায় খরব বেরিয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্দেশে আগুন সন্ত্রাসের নামে অসংখ্য মানুষকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল বলেও দাবি করেন। এ ব্যাপারে ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকেও সেই গুমের ঘটনা হচ্ছে, গুমের নাটক হচ্ছে।

বিএনপির শাসনামলে ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজ বাবুর গুমের ঘটনা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা অতীত ভুলে গেছে। এই এলাকার মাহফুজ বাবু ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন কিন্তু তিনি আর ফিরে আসেননি।

আলোচনা সভার ভিডিও চিত্রে আগুন সন্ত্রাসের বীভৎসতার শিকার মানুষের আহাজারির প্রসঙ্গ টেনে এগুলোকে একাত্তরের চেয়েও ভয়াবহ ঘটনার সাথে তুলনা করেন।

এ বিষয়ে বিএনপি-জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘যারা হিংসার আগুনে মানুষ পুড়িয়ে মারে, তারা ঘৃণার আগুনে পুড়ে মরছে। তারা হিংস্র দানবের মতো মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। এদেশের মানুষ এদেরকে সমর্থন করে না, করবে না। ২০১৮ সালে সাম্প্রদায়িক এই বর্বর অপশক্তির পরাজয় হবে, আবারো এরা পরাজিত হবে, অসাম্প্রদায়িক শুভ শক্তির কাছে। তাদের পরাজয় অনিবার্য।’

দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঘৃণার আগুন ছড়িয়ে দিতে হবে, এই বর্বর অপশক্তির বিরুদ্ধে। বিএনপি নামক এই অপশক্তি গণতন্ত্রের মুখোশ পড়ে আছে। এরা কখনো মানবতার মুখোশ পড়ে। এরা মুখোশ পড়ে ধোকা দিচ্ছে। এরা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করছে। জনগণের কাছে এদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। এটাই হবে আমাদের শপথ।

বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে যাবো-এমন প্রত্যাশা করে সেতুমন্ত্রী বিএনপিকে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির পৃষ্টপোষক বলে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এই অপশক্তি রুখতে হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে আগামী নির্বাচনে এদের আবারো পরাজিত করে বিজয়ী হতে হবে। এটাই হবে আমাদের শপথ।

দলের প্রচার সেল তথা প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটিকে সব বিভাগে সব জেলায় এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি-জামায়াতের বর্বরতার চিত্রগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরে এদের মুখোশ উন্মোচিত করতে হবে। এরা মানবতার নামে, গণতন্ত্রের নামে মুখোশ পড়ে আছে। এদের মুখোশ উন্মোচিত করতে হবে এবং সারা বাংলায় এদের বিরুদ্ধে ঘৃণার আগুন ছড়িয়ে দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে আগুন সন্ত্রাসের ভিকটিম এবং পরিবার-পরিজনের কয়েকজনকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নিজস্ব হতবিল থেকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান এইচ টি ইমামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির সদস্য সচিব এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। এছাড়া ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত জোটের আগুন সন্ত্রাসের ভিকটিম এবং নিহতের আত্মীয়-স্বজনরা স্মৃতিচারণ করেন।

০৭ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৫:৪৫ পি.এম