nagorikkantha

‘উন্নয়নের রোল মডেল শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ এই স্লোগান সামনে রেখে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা-২০১৮।

গত ১৩ বছরে দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নের চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলার আয়োজন করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত রাজধানীর সেগুনবাগিচার শিল্পকলা একাডেমিতে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ওই দিন সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ মেলা উদ্বোধন করবেন।

বুধবার বেলা ১১টায় শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।

মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, ‘উন্নয়নের রোল মডেল শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গঠনে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম জনসাধারণের সামনে উপস্থাপন করা হবে।

উদ্বোধনী দিনে সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত রাজধানীর অফির্সাস ক্লাব থেকে শিল্পকলা একাডেমি পর্যন্ত শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে।

মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, উন্নয়ন মেলায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, আনসারসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পৃথক পৃথক স্টল থাকবে। এ মেলায় ৯০টির বেশি স্টল তৈরি করা হয়েছে। সব সরকারি-আধা সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে মেলায় আসা লোকদের সামনে তাদের নিজ নিজ সংস্থার উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরা হবে। সরকারি সংস্থাগুলোর সেবাসমূহ মেলা থেকে সরাসরি দেওয়া হবে। গত ১৩ বছরের অগ্রগতি ও উন্নয়নের চিত্র এতে তুলে ধরা হবে। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দেশের উন্নয়ন হয়েছে অনেক। সবাই এই উন্নয়নের অংশীদার। এই অর্জন সবার। এই উন্নয়নকে তুলে ধরতে আয়োজন করা হচ্ছে উন্নয়ন মেলা।

উন্নয়ন মেলায় থাকবে আলোচনা সভা। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরা হবে। দেশ বরেণ্য শিল্পী ও কলাকুশলীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে।

মেলায় প্রতিদিন বিকেলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক কুইজ, আলোচনা, বিতর্ক ও রচনা প্রতিযোগিতা হবে।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১০টি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের ঘোষণার মাধ্যমে দেশকে সামনে দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ১০টি বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, আশ্রায়ন প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি, নারীর ক্ষমতায়ন কর্মসূচি, সবার জন্য বিদ্যুৎ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, বিনিয়োগ উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ মেলার ওপরে বিশেষ প্রদর্শীনর আয়োজন করা হবে।

মেলার যত আয়োজন

প্রথম দিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হবে। অফিসার্স ক্লাব থেকে শিল্পকলা একাডেমি পর্যন্ত এ শোভাযাত্রায় সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও ছাত্রছাত্রীরা অংশ নেবেন। এখানে প্রধান অতিথি থাকবেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। বিকেল ৩টায় ডিজিটাল বাংলাদেশ ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রা শীর্ষক আলোচনা সভা; যেখানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ার।

মেলার দ্বিতীয় দিনে সকাল ১০টায় এমডিজি অর্জন ও এসডিজি অর্জনের পথে বাংলাদেশ শীর্ষক সেমিনার। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) মো. আবুল কালাম আজাদ।

মেলার শেষ দিন সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু উন্নয়ন দর্শন ও আজকের বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম। বিকেল ৩টায় সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এ ছাড়াও মেলায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

১০ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৩:৩৬ পি.এম