nagorikkantha

একটি সুন্দর এবং রোমান্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুই পক্ষকেই সৎ হওয়া বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যখন ব্যাপার হয় কোনো কিছু শেয়ার করা বা বলার তখন সত্যিটা বলা খুব দরকার।

তবে আপনাকে যে আপনার সঙ্গীকে সব কিছু বলতে হবে এমন কোনো কথা নেই। কিছু কিছু কথা থাকে যার গোপনীয়তা শুধুমাত্র নিজের কাছে সুরক্ষিত।

যে সত্যিগুলো আপনাকে আপনার সঙ্গীর সামনে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে, এমন কথা আপনি চাইলে এড়িয়ে যেতে পারেন। অথবা এমন কিছু কথা যা আপনার সঙ্গীকে মানসিক ভাবে আঘাত করতে পারে, সেগুলোও আপনি চাইলে না ও বলতে পারেন। এতে বরং সম্পর্ক আরো সুন্দর থাকবে।

একটি সুন্দর সম্পর্কের ভিত্তি হল দুই জনের মধ্যে সমঝোতা এবং বিশ্বাস। একজন আরেকজনের চিন্তা ভাবনা, চাওয়া পাওয়া এবং কথাগুলোকে শোনা এবং ধৈর্য, যত্ন এবং সচেতনতার সঙ্গে সেগুলোকে মূল্যায়ন করা। আর এই ক্ষেত্রে খুবই সামান্য কিছু বিষয় আছে যেগুলো আপনার সঙ্গীর সঙ্গে শেয়ার করার প্রয়োজন নেই। আসুন জেনে নিই সেই গোপনীয়তাগুলো সম্পর্কে এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত।

আপনার সংখ্যা

নিজের যৌন কীর্তিকলাপ সম্পর্কে অনেক বেশি শেয়ার করলে তা আপনার সঙ্গীর মতে সন্দেহ এবং হতাশা তৈরি করতে পারে- এমনটাই জানান টনি কোলম্যান, সাইকোথেরাপিস্ট, রিলেশনশিপ কোচ এবং ডিভোর্স মেডিয়েটর। তিনি আরো বলেন, একজন প্রকৃত সঙ্গীর কাছে এটি আসলেই কোনো ব্যাপার নয় যে আপনি আপনার অতীতে কার সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু আপনি যদি দেখেন আপনার সঙ্গী আপনার অতীত নিয়ে অনেক বেশি সন্দেহ করছেন তাহলে সেটা নিয়ে অবশ্যই কথা বলা দরকার দুজনের।

সঙ্গীর অপারগতা প্রকাশ করা

রিলেশনশিপ এক্সপার্ট স্টেফ সাফরান বলেন, আপনার সঙ্গী হয়তো বিছানায় অন্যদের তুলনায় কম রোমান্টিক, তাই বলে তা প্রকাশ করা ঠিক নয়। আপনি আপনার বর্তমান সঙ্গীর থেকেও রোমান্টিক কারো সঙ্গে ছিলেন পূর্বে সেটা নিয়ে বর্তমানে কথা না বলাই ভালো। এবং আপনি সেটা নিয়ে কথা বলতে বাধ্য না। আর আপনার সঙ্গীর ভেতরে যেটার কমতি আছে সেটার তুলনা না করে বরং উপায় খুঁজে বের করুন কিভাবে এই সম্পর্ককে আরো সুন্দর করে তোলা যায়।

অতীতের অস্বস্তিকর ব্যাপার

সাফরান বলেন, সম্পর্কে অতীত ঘটনা শেয়ারিং এর ব্যাপারে সবাই সব সময় সমান হতে পারে না। কষ্ট পাওয়া বা খারাপ লাগার ঘটনাগুলো কেউই সহজে বলতে চায় না। তবে আপনার অতীত সম্পর্কে যে কথা আপনি আপনার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে বলতে পারেন না, তা আপনার সঙ্গীকে বলার কোনো প্রয়োজন নেই। সম্পর্ক একটি বিশ্বাস এবং সমঝোতার জায়গা। যার সম্পর্কে আপনি নিজেই ধীরে ধীরে জানছেন তাকে সব কিছু হুট করে বলা ঠিক নয়। আর সেটা যদি হয় আপনার অতীতের কোনো অস্বস্তিকর ঘটনা তাহলে তা আপনার সঙ্গীকে বলা থেকে বিরত থাকুন।

অপমানজনক কথা

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ যালমান ব্রেগমান বলেন, যদি আপনি আপনার সঙ্গীর মধ্যে এমন কোনো নেতিবাচক আচরণ দেখে থাকেন যা তার পক্ষে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তা অবশ্যই তাকে বলবেন না। বরং সেটা আপনি আপনার নিজের মধ্যে রেখে দিন। জোরে খাবার চিবানো বা নাক ডাকার মতো বিষয় নিয়ে সঙ্গীর সঙ্গে বাকচিত করাটা অপমানজনক। যদি বিষয়গুলো খুব বড় ধরনের না হয় যা আপনার সম্পর্ককে প্রভাবিত করে তাহলে সেটা নিয়ে কথা না বলাই শ্রেয়।

মুঠোফোনের বার্তা

যালমান বলেন, যদি আপনার সঙ্গী আপনার সব কিছুতে একটু বেশি নাক গলায় যেমন আপনার মুঠোফোনের বার্তা- আপনি কাকে বার্তা পাঠাচ্ছেন বা কে আপনাকে পাঠাচ্ছে এবং কথা সত্যতা যাচাই করার জন্য ফোন দেখা ও জেরা করে, তাহলে বুঝবেন যে আপনার সম্পর্কে বিশ্বাসের কমতি আছে। যদি আপনার সঙ্গী আপনাকে তার সব ধরনের বার্তা দেখাতে চায় এবং পরিবর্তে আপনার মুঠোফোনের বার্তা দেখতে চায় তাহলে তা মোটেও ভালো লক্ষণ নয় বরং এখনি এই বিষয়গুলো নিয়ে খোলাখুলি কথা বলুন।

সব সম্পর্ক তার প্রকৃতি অনুযায়ী ভিন্ন। আপনি যেখানে যার সঙ্গে স্বস্তি অনুভব করবেন তার সঙ্গেই থাকবেন সারাজীবন। যদিও ওপরের বিষয়গুলো সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে না যদি না আপনার সঙ্গী সন্দেহপ্রবণ হন। আর প্রকৃত সঙ্গীরা এই ধরনের ব্যাপারগুলো নিয়ে মাথা ঘামান না।

১১ জানুয়ারী, ২০১৮ ১১:০০ এ.ম