nagorikkantha

শীতকালীন সবজি টমেটো চাষে প্রথম দিকে বৃষ্টিতে কিছুটা ক্ষতি হলেও চাষিদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এবার রাজবাড়ীতে টমেটোর ফলন ভালো হয়েছে। ফলন ভালো ও বাজারে দাম বেশি পাওয়ায় খুশি চাষিরা।

শীতকালীন সবজি টমেটো তরকারি রান্নায় ও সালাদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। টমেটো পছন্দ করেন না এমন লোক খুব কমই আছেন। বাজারে সুস্বাদু এ সবজির বেশ কদর। তাই টমেটো চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছেন রাজবাড়ীর কৃষকরা। নদী তীরবর্তী এলাকা হওয়ায় রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলায় টমেটোর চাষ বেশি হয় এবং ফলনও ভালো হয়েছে। পাশাপশি অন্যান্যে উপজেলাতেও টমেটোর আবাদ হচ্ছে। এখন কৃষকরা পাকা টমেটো খেত থেকে তুলে পাইকারী ক্রেতার মাধ্যমে রাজবাড়ী ও ফরিদপুরে বিক্রি করছেন ১১০০ থেকে ১৪০০ টাকা মণ হিসেবে।

কৃষকরা বেশির ভাগই হাইব্রিড জাতের টমেটো চাষ করে থাকেন। পাশাপাশি কৃষি গবেষণাগার থেকে উদ্ভাবিত যে সকল টমেটোর জাত আছে সেগুলোও তারা চাষ করেন। এছাড়া বাড়িতেও টমেটোর চাষ করেন। প্রতিবিঘা জমিতে টমেটো চাষ করতে সব মিলিয়ে কৃষকদের ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ হলেও টমেটো বিক্রি করেন প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর রাজবাড়ীতে ৮২৮ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছিল। আর এ বছর ৮২৫ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এখন পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ৮০০ হেক্টর জমিতে । এর মধ্যে রাজবাড়ী সদরে ৩০০, গোয়ালন্দে ৩৫০, পাংশায় ১২০, কালুখালীতে ৩৫ ও বালিয়াকান্দিতে ২৫ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে আড়াই টনের বেশি টমেটো উৎপাদন হয়।

কৃষকরা জানান, প্রথম দিকে বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরে নিজেদের চেষ্টায় তারা টমেটোর আবাদ করেছেন। এতে তারা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কোনো কর্মকর্তার সাহায্য বা পরামর্শ পাননি। তাদের অক্লান্ত চেষ্টায় টমেটোর ফলন ভালো হয়েছে এবং দামও ভালো পাচ্ছেন। এ জন্য তারা অনেক খুশি।

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর রাজবাড়ীতে টমেটোর আবাদ বেশি হয়েছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে। যার বেশির ভাগই আবাদ হয়েছে রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলায়। এ বছর ৮২৫ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এখন পর্যন্ত ৮০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। যারা আগাম টমেটো আবাদ করেছেন তারা বেশি লাভবান হচ্ছেন।