nagorikkantha

প্রবীণ শিক্ষক সুনীল কুমার শর্মাকে লাঞ্ছনার ঘটনায় কক্সবাজার সদর আসনের এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল সরাসরি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বললেও রাতে একটি বিবৃতি পাঠিয়েছেন। বিবৃতিতে শিক্ষক সুনীল কুমার শর্মাকে তিনি একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে শান্তি কমিটির সহযোগী বলে আখ্যায়িত করেছেন।

শিক্ষকতাকালীন সময়ে সুনীল শর্মার বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণেরও অভিযোগ রয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন এমপি কমল। আর সুনীল কুমার শর্মা তাকে (এমপি কমলকে) শিশুকালে কখনোই কোনোভাবে পাঠদান করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, গতকাল (১৬ জানুয়ারি) ‘শিক্ষককে লাঞ্ছিত করলেন এমপি কমল’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংবাদটি মোটেও সত্য নয়। মূলত: প্রাসঙ্গিক কিছু বিষয় নিয়ে উচ্চ বাক্য বিনিময় হয়েছিল। তাকে আমার শিক্ষক হিসেবে সংবাদে দেখানো হয়েছে। অথচ তিনি কখনো আমার শিক্ষক ছিলেন না। তিনি একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে শান্তি কমিটির সহযোগী ছিলেন এবং পাক হানাদারদের বাজার করে দিতেন, যা এলাকাবাসী জানেন।

তিনি জিয়াউর রহমানের বিএনপি ও এরশাদ সরকারের জাতীয় পার্টির আমলে সক্রিয় নেতা ছিলেন। ওই সময় বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামীলীগ বিরোধী বক্তব্য রাখার কারণে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দ্বারা ১৯৮৫ সালের উপজেলা নির্বাচনে, ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে ও ৯০ এর গণআন্দোলনে গনপিটুনির শিকার হন।

এমপি কমল উল্লেখ করেন, তিনি (সুনীলশর্মা) একজন ধর্ষণ মামলার অভিযুক্ত আসামি। রামু খিজারী বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জনৈক ছাত্রীকে ধর্ষণ করলে এলাকাবাসী তাকে হাতেনাতে ধরে গণধোলাই দেয়। এ ঘটনায় কারণে পরবর্তীতে ওই ছাত্রীর পর পর চার বার বিয়ে ভেঙে যায়। উখিয়ারঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও অনুরুপ ঘটনায় অভিযুক্ত হয়ে গণধোলাইর শিকার হন। তৎকালীন খালেদা জিয়া সরকারের আমলে বিএনপির নেতাদের মাধ্যমে তিনি সাজা ভোগ না করে সুবিধা অর্জন করেন। তিনি বর্তমানে বিএনপির সাবেক এমপির স্কুলের শিক্ষক। তাকে অন্য কেউ জায়গা দেয় নাই বলে বিএনপি নেতার আশ্রয়ে আছেন।

এমপি কমলের এই বিবৃতির জবাবে শিক্ষক সুনীল কুমার শর্মা বলেন, আমি তাকে (এমপি কমলকে) ছোটবেলায় পড়িয়েছি কিনা তা তার বড় ভাই রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল, বোন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরী ও তার মা ভালো করেই জানেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে কমলের বয়স ছিল এক-দেড় বছর। আমি রাজাকার ছিলাম কিনা তা এমপি কমলের বাবা সাবেক এমপি ও মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী ভালোই জানতেন। তিনিই আমাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে লিখিত স্বীকৃতি দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আমি মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম বলেই ১৯৭১ সালে যুদ্ধকালীন সময়ে পাক হানাদার বাহিনী আমাকে খুঁজতে এসে না পেয়ে আমার ভাইকে তারা ধরে নিয়ে গিয়েছিল। আমাদের বাড়ি আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তান হানাদাররা। সে সময় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য থানায় করা এমএলএ মামলাটির আমিই প্রথম আসামি হিসেবে অভিযুক্ত ছিলাম। এসব তথ্য কি প্রমাণ করে আমি রাজাকার ছিলাম?

ধর্ষণের অভিযোগ সম্পর্কে সুনীল কুমার শর্মা বলেন, সমাজে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের শত্রু থাকে। আমাকে নাজেহাল করতেই একটি স্বার্থন্বেষী মহল ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছিল। যার বিচারক ছিলেন কমলের বাবা ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী। যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতে পারে। আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল কিনা তার বাবাসহ বিচারে থাকা অন্যরা ভালোই জানেন। আমাকে নানা কটুক্তিমূলক বাক্যে অপদস্ত করে যদি এমপি কমল উঁচুতে উঠতে পারে তাতে আমার দুঃখ নেই।