nagorikkantha

মাশরাফি, রাজ্জাক, সৈয়দ রাসেল- তিন বন্ধু হরিহর আত্মা। ক্লাব ক্রিকেটে এক সঙ্গে এক ক্লাবে না খেললেও খুলনা বিভাগের হয়ে অন্তত সাত-আট বছর এক সঙ্গে খেলেছেন। জাতীয় দলেও তিন বন্ধু বেশ কয়েক বছর খেলেছেন। এর মধ্যে মাশরাফি-রাজের হাত ধরে বাংলাদেশের বেশ কিছু স্মরণীয় জয়ও আছে। ২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় জয়ে দুই সফল রূপকার মাশরাফি (৩৮ রানে ৪ উইকেট) ও রাজ্জাক (৩৮ রানে ৩ উইকেট) দুই বন্ধু। সম্পর্কটা অনেক বেশি আন্তরিক ও নিবিড়, ক্রিকেট পাড়ার সবাই তা জানেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতা ও আড্ডায় অনেকবারই বন্ধু রাজ্জাক প্রসঙ্গ এসেছে। বোঝা গেছে মাশরাফি চাইতেন রাজ জাতীয় দলে ফিরুক এবং সাকিবের সঙ্গে তার জাতীয় দলকে সার্ভিস দেওয়ার আস্থা ছিল। তবে বন্ধু রাজ্জাককে জাতীয় দলে নিতে টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকদের কাছে অনুরোধ বা সুপারিশ করেননি।

মাশরাফি জোড় করলে হয়তো আগেই ডাক পেতে পারতেন রাজ্জাক। কিন্তু মাশরাফি কখনই তা করেননি। রাজ্জাকের দলে ফেরা নিয়ে যখন মিডিয়ার সঙ্গে কথা হয়েছে তখনই বলেছেন বন্ধু প্রিয়তা দেখানোর কিছু নেই। রাজ ভালো খেলে আসলে আমি তো খুশিই হব। তাকে নিতে হবে, নেয়া উচিত, এসব কথা কখনো আমি টিম ম্যানেজমেন্ট বলিনি, বলবোও না।

অবশেষে মাশরাফির প্রিয় বন্ধু রাজ্জাক এবার জাতীয় দলে ডাক পেলেন। সাকিবের আঙুল ফেটে যাওয়ায় টিম স্পিন ডিপার্টমেন্টে যে শুন্যতা সৃষ্টি হয়েছে অভিজ্ঞ রাজকে তা পূরণের চেষ্টায় বা চিন্তায় নির্বাচকরা। রাজ জাতীয় দলে ফেরায় কেমন লাগছে মাশরাফির, বন্ধুর তার বার্তাটাই বা কি? নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে করছে।

তাহলে শুনুন বন্ধু রাজকে (আব্দুর রাজ্জাক) শুভ কামনা জানিয়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। চার বছর পর আবার টেস্ট দলে ডাক পাওয়া রাজ্জাকের প্রতি শুভ কামনা জানানো মাশরাফি বলেন, ‘প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫০০ উইকেটে পাওয়া কম কথা নয়। রাজ তার মেধা, প্রজ্ঞা এবং আন্তরিক পরিশ্রম দিয়েই সাফল্যের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। তবে আমি তাকিয়ে আছি মাঠের দিকে। দিন শেষে মাঠের পারফরমেন্সটাই আসল। রাজ ফুরিয়ে যায়নি এটা আমিও বিশ্বাস করি। একটা সুযোগ পেয়েছে যদি খেলে আমার সর্বোচ্চ শুভ কামনা তার জন্য। রাজ নিজেকে মেলে ধরতে পারলে শুধু তার নামের পাশেই উইকেটে জমা পড়বে না, দলও উপকৃত হবে।’