nagorikkantha

সরকারি তহবিলের ৫ কোটি টাকা আত্মসাতে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আজিমুদ্দিন বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি, রাজস্ব) দুলাল চন্দ্র সূত্রধর এবং অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মাইনুলের সংশ্লিষ্টতা মিলেছে।

ভূমি অধিগ্রহণের ৫ কোটি টাকা আত্মসাতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার আসামি জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব (পিরোজপুর জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা) মো. সেতাফুল ইসলামের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

শুক্রবার কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তছলিমা আক্তারের এজলাসে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ সময় মামলার বাদী ও দুদকের সহকারী পরিচালক রাম প্রসাদ মন্ডলসহ দুদকের বিশেষ একটি টিম উপস্থিত ছিল। বিশেষ টিমের সদস্যরা হলেন- দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ, মনিরুল ইসলাম ও ফজলুল বারী। আদালতের একটি বিশেষ সূত্র এসব তথ্য রাইজিংবিডিকে নিশ্চিত করেছে।

জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচারকের নির্দেশে সেতাফুলকে পুনরায় কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য রাইজিংবিডিকে নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে দুদকের অপর একটি সূত্র জানায়, গত ২৯ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ দিনের রিমান্ডে সেফাতুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদকের বিশেষ একটি টিম। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে প্রাক্তন ওই কর্মকর্তা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হন। এরপর শুক্রবার দুপুরে ওই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আর জবানবন্দিতে কিশোরগঞ্জের ডিসি, এডিসি ও অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজনের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

আত্মসাতের আর একটি বড় অংশ ডিসি ও এডিসিসহ বেশ কয়েকজনকে ভাগ দিয়েছেন বলে আদালতকে জানান তিনি।

ভূমি অধিগ্রহণের ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব (পিরোজপুর জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা) মো. সেতাফুল ইসলামকে গত ১৭ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করে দুদক। পিরোজপুর সার্কিট হাউজের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার পর দুদকের সহকারী পরিচালক রাম প্রসাদ মণ্ডল বাদী হয়ে মামলা (নম্বর ৩১) দায়ের করেন।

সেতাফুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলায় ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি জনপ্রশাসন ক্যাডারের ২৪তম ব্যাচের কর্মকর্তা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনকালে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণা ও জালিয়তির মাধ্যমে অনুমোদিত ভূমি অধিগ্রহণের সরকারি ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়ায় ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধি ৪২০/৪০৯/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায় মামলাটি করা হয়।