nagorikkantha

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করার কারণে দেশটির ভিসা পাননি আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি দিয়াগো ম্যারাডোনা। সাবেক বান্ধবী ক্লদিয়া ভিলাফেনের করা একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে মার্চে মিয়ামিতে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল ম্যারাডোনার।

সে উদ্দেশ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার আবেদন করেছিলেন তিনি। কিন্তু ভিসার আবেদনের শুরুতে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সম্পর্কে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যভাবে বাজে মন্তব্য করে বসেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। এ কারণে তার ভিসার আবেদন বাতিল করে দেয়া হয়।

বুয়েনস ডিয়াজ আমেরিকা অনুষ্ঠানে ম্যারাডোনার আইনজীবী ম্যাতিয়াস মোরলা প্রকৃত কারণটি ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, কেন ম্যারাডোনার ভিসার আবেদন বাতিল করে দেয়া হয়। ম্যাতিয়াস বলেন, ‘তিনি যখন আমেরিকার ভিসা আবেদন করেন, তখন আমি তাকে বলেছিলাম, দিয়াগো প্লিজ আমেরিকা সম্পর্কে বিতর্কিত কোনো মন্তব্য করবেন না।’

কিন্তু ভেনেজুয়েলান নেটওয়ার্ক টেলেসারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারের সময়ই প্রশ্নকারীর দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে আপনার মতামত কী? জবাবে ম্যারাডোনা বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প হচ্ছেন একজন চিরোলিটা।’ আর্জেন্টিনায় চিরোলিটা দিয়ে কোনো ব্যক্তির সর্বনিম্ন মূল্য বোঝানো হয়। অর্থ্যা, তিনি একজন নিচুদরের ব্যক্তি।

কোনো ব্যক্তিতে আর্জেন্টিনায় তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতেই এই শব্দটিকে গালি অর্থে ব্যবহার করা হয়। এ শব্দটি বলার কারণেই শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হলেন না দিয়াগো ম্যারাডোনা।

এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দুবার ম্যারাডোনার জন্য নিষিদ্ধ হলো। প্রায় দুই যুগ আগে ১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় ড্রাগ টেস্টে পজিটিভ ধরা পড়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল দিয়াগো ম্যারাডোনাকে। আর্জেন্টাইন ফুটবল সমর্থকরা সে সময়ে ম্যারাডোনার এমন দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতিতে বেশ হতাশও হয়েছিল।

ম্যারাডোনা ওই সময় ঘোষণা দিয়েছিলেন, আর কোনোদিন যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন না। কিন্তু যখনই তিনি একটা জরুরি প্রয়োজনে ভিসার আবেদন করলেন, তখন তার বিতর্কিত মন্তব্য তাকে আর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে দিল না।