nagorikkantha

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যাকাণ্ডের ছয় বছর আজ। অথচ এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হয়নি। তদন্ত সংস্থা র‌্যাব নতুন করে কিছুই জানাতে পারছে না। তদন্তে নতুন কিছু নেই বলে গতকালও জানিয়েছেন র‌্যাবের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে নিহতদের পরিবারের মনে করছে, সরকার আন্তরিক হলে হয়তো এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হতো।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৩ মার্চ নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ নিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ৫৪ বারের মতো পেছাল। গত ১ ফেব্রুয়ারি মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে র‌্যাব প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম মাহমুদা আক্তার নতুন এ দিন ধার্য করেন।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সারোয়ার ওরফে সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন নাহার রুনা ওরফে মেহেরুন রুনি দম্পতি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় খুন হন। হত্যাকাণ্ডের পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)। চার দিন পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে ছয় বছরেও মামলার কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি তারা। আদালত বার বার প্রতিবেদন দাখিল করতে বললেও ৫৪ বারের মতো সময় নিয়েছে র‌্যাব।

মামলার তদন্তভার হাতে পাওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের সাত মাসের মাথায় এসে সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব আসামিদের অচিরেই শনাক্ত করার আভাস দিয়েছিল। হত্যাকাণ্ডস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য বহু অর্থ ব্যয় করে যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। সেই পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার আগ পর্যন্তও আশার কথা শুনিয়েছেন র‌্যাবের কর্মকর্তারা।

এই মামলার তদন্তের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে মামলার বাদী ও রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বলেন, ‘র‌্যাব তদন্ত করছে না। আমরা হতাশ। তারা তদন্ত কার্যক্রম আটকে রেখেছে। শত শত জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করলেও এই মামলায় কোনো অগ্রগতি নেই। এক বছর আগে ফেব্রুয়ারিতে র‌্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা আমাদের বাসায় এসেছিল। এরপর আর কোনো যোগাযোগ করেনি।’

মামলার বাদী আরও বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ড ক্লু’লেস ছিল না। ঘটনাস্থল থেকে অনেক ক্লু উদ্ধার করেছে তদন্ত কর্মকর্তারা। ৩টি সংস্থা এর তদন্তে কাজ করেছে, কিন্তু কেউই প্রকৃত আসামিদের শনাক্ত করতে পারছে না। সরকার আরও বেশি আন্তরিক হলে হয়তো এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হতো।’

মামলা পরিচালনার সময় কোনো ধরনের হুমকি কিংবা হয়রানির শিকার হয়েছেন কি না? জানতে চাইলে রোমান বলেন, ‘প্রথম দিকে ফোনে কিছু হুমকি পেয়েছিলাম এখন আর এ রকম হয় না। পাশাপাশি কিছু হলুদ সাংবাদিকতার শিকার হয়েছিলাম আমরা।’

মামলার তদন্তের বিষয়ে র‌্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা তদন্ত করছেন। মামলার সর্বশেষ তথ্য তিনি আদালদকে জানাবেন।’

প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ ৫৪ বারের মতো পিছিয়েছে। কেন তদন্ত শেষ হচ্ছে না জানতে চাইলে মুফতি মাহমুদ বলেন, ‘তদন্তের প্রয়োজনেই সময় লাগছে।’

ঘটনার কোনো ক্লু মিলেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা পরবর্তী যে তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে সেই তারিখে আদালতকে সব কিছু জানাবো।’