nagorikkantha

জনপ্রিয় তারকা দম্পতি শাকিব খান-অপু বিশ্বাস। গত একবছর এই দম্পতিকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা যেন থামছেই না। বিয়ের কথা ফাঁস করে দেয়া, সন্তানকে রেখে অপুর কলকতা যাওয়া ইত্যাদি নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এর মধ্যেই অপুকে ডিভোর্স লেটার পাঠান শাকিব। এ ঘটনার পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এতে শাকিব-অপুকে উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়।

গত ১৫ জানুয়ারি সিটি করপোরেশনের অঞ্চল ৩-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হেমায়েত হোসেনের সঙ্গে তালাক নোটিশের বিপরীতে সমঝোতা বৈঠকে বসেন অপু। সালিশি বৈঠকে অপু বিশ্বাস উপস্থিত হলেও শাকিব খান কিংবা তার পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত ছিলেন না। এরপর আজ ২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় সালিশি বৈঠক ডাকা হয়। এতে শাকিব খান অংশ নেয়ার প্রয়োজন মনে করেননি বলে তার ঘনিষ্ঠজনেরা মনে করছেন।

অন্য দিকে অপু বিশ্বাসও সেখানে যাননি। তিনি ডিভোর্সের বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে অপু বিশ্বাসের কথা হয়। অপু বিশ্বাস বলেন, ‘আমি ডিভোর্সের বিষয়টি মেনে নিয়েছি। পরিবারের বিষয়গুলা জনসম্মুখে আনা ঠিক নয়। তারপরও শাকিব খান বিষয়টিকে জনসম্মুখে নিয়ে এসেছেন। তিনি একবারও চিন্তা করেননি যে, তার একটি সন্তান আছে। তার উপর এর প্রভাব পরতে পারে। তিনি নিজেকে ইতিবাচক দেখানোর জন্য সব সময় জনসম্মুখে বিষয়গুলো নিয়ে আসছেন। আর আমি আমার বচ্চার মুখের দিকে তাকিয়ে সব সময় চেয়েছি বিষয়গুলো বাইরের মানুষ কম জানুক।’

এর আগে আপনি শাকিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন, আপনার সন্তানের ভরণ-পোষণের জন্য গত দুই মাস ধরে সে টাকা দিচ্ছে না। এর সমাধান পেতে আপনি আইনের সহায়তা নেবেন কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে অপু বলেন, ‘না আমি আইনের সহায়তা নেব না। পারিবারিক ইস্যু নিয়ে আমি আর কোথাও যেতে চাই না। যে মেয়ে দীর্ঘ আটটি বছর নিজেকে লুকিয়ে রেখেছে। কিন্তু যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে তখন আমি বাচ্চাকে নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে এসেছি বাধ্য হয়ে। আমি কেন সেদিন এসেছিলাম তা আজ স্পষ্ট হয়ে গেছে। কারণ আমার বাচ্চার পরিচিতিটা দরকার ছিলো। একজন মা হিসেবে পৃথিবীর সব নারী এটা চাইবেন। আমিও চেয়েছি। সুতরাং আমি কোনো ভুল করিনি।

শুনছি শাকিব খান বাচ্চাকে স্কুলে ভর্তি করাবেন। কিন্তু ডিভোর্স লেটার পাঠানোর পর থেকে তার তো খোঁজ নেই। আমি তাকে সব দিক থেকে মাফ করে দিয়েছি। আর একটা বিষয় মাধ্যমে জানাতে চাই। আদৌ বিয়ের সময় আমার কাবিন আইন অনুযায়ী শাকিব করেছে কিনা আমি জানি না। কাবিনের কাগজে টাকার অঙ্কটা বড় ছিল। সেই কাগজ শাকিবের কাছে আছে। আমার কাছ থেকে কাগজটা ওরা ছিনিয়ে নিয়েছে। আমি মুসলমান ধর্মের বিয়ের রীতি পুরোপুরি জানতাম না। ফলে শাকিব যেভাবে বলেছে আমি তাই করেছি। তবে আমি দেখেছি, কাবিনের কাগজে এক কোটি সাত লাখ টাকার দেনমোহরের কথা লেখা ছিলো। কিন্তু এখন শাকিব খান বলছেন, সাত লাখ টাকার নাকি দেনমোহর করা হয়েছে। এক কোটি টাকা কোথায় হাওয়া হয়ে গেল আমি জানি না। যেহেতু আমার কাছে কাগজপত্র নেই ফলে আমি কিছু প্রমাণ করতে পারব না।’

তিনি আরো বলেন, ‘শাকিব খান আগেই আমাকে বলেছিলো, আমাদের সন্তান হলেই সে আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দেবে। তখন আমি বিষয়টিকে গুরুত্ব দেইনি। কথার কথা মনে করেছিলাম। কিন্তু আজ বুঝতে পারছি বিষয়টা কতটা সত্যি। আমি জানতাম, শাকিব খানের চরিত্র খারাপ কিন্তু এত খারাপ জানতাম না। যে সব মেয়েদের সাথে তার ওঠা-বসা; আমি ভেবেছিলাম সন্তান হলে সে এই পথ থেকে সরে আসবে। কিন্তু ঘটেছে তার উল্টো। বাবা হয়ে সন্তানের স্বার্থেও সে ছাড় দিতে পারে নি। শাকিব খান যে কাজগুলো করেছেন দর্শক তাদের বিবেক দিয়ে নিশ্চয়ই তা বিবেচনা করবেন। আমি তাকে ভালোবেসে ঘর ছেড়েছি, পরিবার ছেড়েছি, ক্যারিয়ার ছেড়েছি। বিনিময়ে পেয়েছি অবহেলা আর অসম্মান।’