nagorikkantha

যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শায় বানিজ্যিক ভাবে শুরু হয়েছে টার্কি পাখির চাষ। স্বল্প বিনিয়োগে অধিক লাভজনক এই ব্যবসায় ক্রমেই ঝুকে পড়ছে শিক্ষিত অনেক বেকার যুবক। বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখা পড়া শেষ করে দীর্ঘদিন বেকার ছিল উচ্চ শিক্ষিত যুবক জাহিদ পারভেজ রাজু। তারকি পাখির চাষ করে আজ খ্যাতির শীর্ষে উঠে এসেছেন জাহিদ।

সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শার গিলেপোল গ্রামে এক বছর আগে রাজু গড়ে তোলেন টার্কি পাখির খামার। বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষ করে দীর্ঘদিন বেকার ছিল রাজু। অভাবের জাতাকলে পড়ে শেষ পর্যন্ত রাজু চাকুরী নেয় একটি বিমা কোম্পানীতে কিন্তু বিমা কম্পানী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সে চাকুরি আর টেকেনি বেশীদিন। বছর খানেক আগে বেকারত্ব ঘুচাতে রাজু গড়ে তোলে টার্কির খামার।

প্রথমে ৯০ হাজার টাকায় ৬০০ ডিম কিনে ডিমের বাচ্চা ফুটানোর জন্য ইনকিউভেটর দিয়ে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানো শুরু হয়। টার্কির বাচ্চার চাহিদা দেখে রাজুকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি। প্রতিটি এক দিনের টার্কির বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে ৩’শ টাকায় আর এক মাসের বাচ্চার বিক্রি হচ্ছে ৬’শ টাকায়। প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে তার কাছে টার্কির বাচ্চা কেনার জন্য আসছে খামারিরা। এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে টার্কি কিনে নিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে তার খামারে পূর্ণবয়স্ক তারকি পাখি রয়েছে ৭৫টি এবং একমাস’র বাচ্চা আছে ২’শ টি। ৬ মাস বয়স হলেই টার্কি ডিম দেওয়া শুরু করে।

প্রতিটি তারকি বছরে ১২০ থেকে ১৫০টি ডিম দিয়ে থাকে। সব খরচ বাদ দিয়ে এক বছরে লাভ হচ্ছে ৬ লাখ টাকা। রাজু তার বাড়ির পাশে ৪’শ পূর্ন বয়স্ক তারকি পাখি নিয়ে নতুন খামার তৈরি করছে।

রাজুর দেখাদেখি আরও অনেকে ছোট ছোট খামার গড়ে তুলছেন। রাজুর খামার থেকে টার্কির বাচ্চা কিনে ঝিকরগাছা উপজেলার মাঠুয়াপাড়ার কামরুল ইসলাম সহ আরো অনেকে নতুন নতুন খামার গড়ে তুলেছেন।

টার্কি পাখি তৃণভোজি প্রাণী হওয়ায় এরা লতাপাতা ও ঘাস খায়। এদের রোগবালাইও কম। টার্কির সংখ্যা বাড়াতে পারলে বেশি লাভ হয় কিন্তু অর্থ সংকটের কারনে এগোতে পারছে না অনেকেই। দু’মাসের প্রতিটি বাচ্চার ওজন এখন দেড় কেজি হয়েছে।

শার্শা উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা জয়দেব কুমার সিংহ জানান, টার্কির মাংস অতি জনপ্রিয়, মুরগী এই মাংশে ক্লোজটল নাই, পালনের মত স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিক খাদ্য খেয়ে বেচে থাকে। এক বছরে একটি তারকি ১০/১২ কেজি ওজন হয়। এ অঞ্চলে ব্যক্তি ও খামারি পর্যায়ে অনেকেই তারকি চাষ করে সাবলম্বি হয়ে উঠছে। এবং আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদেরকে পরামর্শ দিয়ে আসছি।