nagorikkantha

ভালো থাকার কথা যদি বলতে হয় তাহলে কয়েকটি দেশের উদাহরণ দিতে হয়। এ দেশগুলোর কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয়ে উন্নয়ন অন্যদের জন্য অনুকরণীয়। এ লেখায় তুলে ধরা হলো তেমন কিছু বিষয়। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে হাফিংটন পোস্ট।

১. সন্তান জন্মদানের ছুটি- সুইডেন
সুইডেন সারা বিশ্বের জন্য সন্তান জন্মদানের ছুটির ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ। এ দেশটি প্রতিটি সন্তানের জন্য ৪৮০ দিন পর্যন্ত ছুটি দেয়। এর মাধ্যমে দেশটি তাদের ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য মায়ের আদর-স্নেহ পাওয়ার ও সুস্থভাবে গড়ে ওঠার দারুণ সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

২. সুস্থ ডায়েট- জাপান
জাপানিরা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খায়। আর এর পেছনে রয়েছে দেশটির সরকার। তারা উচ্চমাত্রায় স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে উৎসাহিত করে নাগরিকদের। এ খাবারের মধ্যে রয়েছে কার্বহাইড্রেট, মাছ ও সয়া পণ্য। এছাড়া প্রাণীজ ফ্যাট ও অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতেও নাগরিকদের নিরুৎসাহিত করে দেশটি।

৩. অ্যাডভেঞ্চারে উৎসাহ প্রদান- নিউজিল্যান্ড
নিউজিল্যান্ডের অধিবাসীরা শুধু দারুণ সব অ্যাডভেঞ্চারই করেন না, তারা এ বিষয়টিকে অগ্রাধিকারও দেন। এর কারণ দেশটির সরকার। তারা দেশের দারুণ সব স্থানে অ্যাডভেঞ্চারের জন্য নাগরিকদের উৎসাহ দেন নানাভাবে। এতে নিউজিল্যান্ডের অধিবাসীরা যেমন স্বাস্থ্যবান হয়ে ওঠেন তেমন তাদের মানসিক স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।

৪. প্রযুক্তি নেশা কাটাতে সফল- দক্ষিণ কোরিয়া
দক্ষিণ কোরিয়ার অধিবাসীরা বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তিপ্রিয় নাগরিক। তারা নানা যন্ত্রপাতির মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখে। আর এ কারণে কোরিয়ানদের অনলাইনে নেশা যেন না হয়ে যায় সেজন্য সচেষ্ট তাদের দেশের সরকার। আর তাদের এ উদ্যোগ যথেষ্ট সফলও বটে।

৫. নিয়মিত ঘুম- স্পেন
সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত ঘুমের গুরুত্ব রয়েছে। আর স্পেনের অধিবাসীরা ঘুমের গুরুত্ব বোঝেন। সে কারণে তারা দিনের মধ্যভাগে যেমন একটু ঘুমিয়ে নিতে লজ্জা করেন না তেমন রাতেও ঠিকমতো ঘুমাতে বিলম্ব করেন না। এমনকি দেশটির সরকারও ঘুমকে খুবই গুরুত্ব দেয়।

৬. সুখী হওয়ায় গুরুত্ব- ডেনমার্ক
ডেনমার্কের অধিবাসীরা যেন সুখ ও আনন্দের মাঝে জীবনযাপন করতে পারেন সেজন্য তাদের সরকার খুবই সচেতন। আর এ কারণে অধিবাসীদের সুখের মাপকাঠিতে দেশটি তালিকার ওপরের দিকেই থাকে। ডেনমার্কের অধিবাসীরা যেমন স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করেন তেমন তাদের সামাজিক অবস্থানও যথেষ্ট ভালো। এ অবস্থানে ডেনমার্ক এক দিনে আসেনি। তাদের দেশের সরকারি নীতির আওতায় বহু বছর ধরেই অধিবাসীদের সুখের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যার ফলাফল আজকের এ অবস্থান।

৭. কর্মীদের সুরক্ষা- ফ্রান্স
ফ্রান্সের অধিবাসীরা কর্মক্ষেত্রে যেন সুরক্ষা পায় সেজন্য সরকার খুবই সতর্ক। এমনকি তাদের ‘রাইট টু ডিসকানেক্ট’ পলিসির আওতায় সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মীদের ছুটির দিনে কিংবা অফ টাইমে ইমেইল চেক করার বাধ্যবাধকতা থেকেও মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কর্মীদের মানসিক চাপ যেন না বাড়ে সেজন্য নানা আইন তৈরি করেছে ফ্রান্স। ফলে সব মিলিয়ে দেশটি কর্মপরিবেশের দিক দিয়ে উদাহরণীয়।