nagorikkanthanagorikkantha

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম শামীম হাসানসহ বেশ কিছু নেতাকর্মীকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে বাঁধা দেবার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি শামীম হাসানের মোবাইল ফোনে বিভিন্ন সময় হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (০৭ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে এমনটি দাবি করেন ছাত্রলীগের এই নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রথম কমিটি আসে ২০১৪ সালের ১৬ই মে। এরপর দীর্ঘ সংগ্রামের পর ২০১৬ সালের ৩০মে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিবির বিতারিত করে হল গুলো মুক্ত করি। এছাড়া আমি ক্যাম্পাস থেকে জঙ্গি ধরিয়ে দিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলাম। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক দুটি হল শহীদ মশিউর রহমান হল ও শেখ হাসিনা হলসহ সতেরটি ডিপার্টমেন্টে ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের মাধ্যমে ছাত্রলীগকে গতিশীল করে রেখেছি।'

শামীম হাসান বলেন, কিন্তু জেলা ছাত্রলীগের সাবেক প্রভাবশালী এক নেতার কু-প্রচারণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস ১৬ই মে গভীর রাতে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে ক্যাম্পাসে শহীদ মশিউর রহমান হলে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে। এতে হলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সবাইকে আহত করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয় বলে জানান এস এম শামীম।

তিনি বলেন, এতোগুলো ছেলেকে মারধর করে নির্যাতন চালিয়ে তারা বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে দিনভর মহড়া দিল, এগুলোর কোন প্রতিকার পায়নি। আর তখন থেকেই চলছে নির্যাতন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি, সাবেক জেলা ছাত্রলীগের এক নেতার নেতৃত্বে আমাকে বারবার ফোনে হুমকি দেয়া হয় যশোর ঢুকলে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে। শুধু আমাকে নই ক্যাম্পাসের আরো শতাধিক ছাত্রছাত্রীরা ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারছে না তাদের ভয়ে। এতে এক বছর করে এসব শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নষ্ট হয়ে গেছে। এখনও তারা ক্যাম্পাসের বাইরে ঘুরে বেড়ায়।

এস এম শামীম আরও বলেন, আমি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাথে কথা বলেছি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি। সে সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, কলেজ সভাপতি ও সাবেক জেলা ছাত্রলীগ নেতা আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতার পৃষ্ঠপোষকতায় চলেন বলে কোন সমাধান করতে পারেননি। এমনকি সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথাও ভাবেননি।

তিনি বলেন, এই মাসের (অক্টোবর) ১০ তারিখ থেকে কিছু ডিপার্টমেন্টের পরীক্ষা শুরু হবে। এরই মধ্যে কিছু ডিপার্টমেন্টের রেজিষ্ট্রেশন চলছে। এজন্য গত বৃহস্পতিবার ( ৫ই অক্টোবর) আমরা যারা হলের আবাসিক ছাত্র তারা হলে যায়। এসময় প্রতিপক্ষের কিছু ছাত্র ও বহিরাগতরা আমাদের উপর আক্রমণ করে। এমনকি আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বোমা ও গুলি ছোড়ে। পরবর্তীতে পুলিশ প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আমরা প্রাণে বেচে যাই।

তিনি বলেন, হামলার পর আমরা তখন সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে হামলার বিরুদ্ধে ক্যাম্পাস গেটে মিছিল করি। পরবর্তীতে আমাদের ফাঁসানোর উদ্দ্যেশে সু-পরিকল্পিত ভাবে হামলাকারীরা আহত হবার ভান করে হসপিটালের ভুয়া সার্টিফিকেট বের করে। পরবর্তীতে রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের হস্তক্ষেপে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর স্যারের সাহায্যে আমাদেরকে নিরাপদে শহরে আসার ব্যবস্থা করে দেয়। এরপর কিছু সংবাদ মাধ্যমে আমাদের নামে ভুল সংবাদ পরিবেশন করা হয়।

এস এম শামীম বলেন, আমাদের শিক্ষাজীবন আজ বিপন্ন। আমরা আমাদের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর নিরাপদে ক্লাস পরীক্ষা দেবার ব্যাবস্থা চাই। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সুন্দর ও সুষ্ঠ পরিবেশ চাই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আল মামুন শিমন, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মাসুদুর রহমান রনি, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান সনি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মশিউর রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি বিপ্লব কুমার দে শান্ত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর তানিন, শেখ হাসিনা হল ছাত্রলীগের সভাতি শিলা আক্তার, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ ছাত্রলীগের আহবায়ক গোবিন্দ মল্লিক, পেট্রোলিয়াম এন্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশিক, পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তানভীর ফয়সাল, জীন ও প্রকৌশলী বিভাগ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি স্বাগত সরকার প্রমুখ।

০৭ অক্টোবর, ২০১৭ ১৯:১০ পি.এম