nagorikkanthanagorikkantha

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
একটি পরিবারের মাধ্যমেই গড়ে ওঠে একটি সমাজ বা রাষ্ট্র। আর পরিবারের মূল উপাদানই হলো নারী ও পুরুষ যা বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমেই তৈরী হয়। নারী ও পুরুষের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কটা নিছক একটি যৌন সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। বরং এটি একটি গভীর সামাজিক, তামাদ্দুনিক, সাংস্কৃতিক, নৈতিক ও মানসিক সম্পর্ক জড়িয়ে আছে। এর উপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র। এখানে যদি কোন গরমিল হয়ে যায় তাহলে গোটা সমাজ ব্যবস্থাটাই তছনছ হয়ে যাবে। তাই ইসলাম পরিবার গঠনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। একটি পরিবার গঠনের সময় যেন কোন ভাবেই মুশরিকদের মিশ্রণ ডুকে না যায় সে ইসলাম অত্যন্ত কঠোর কারন মুসলিম ও মুশরিকদের মধ্যে পার্থক্য অনেক। এখানে তাদের আক্বীদাহ-বিশ্বাসের মধ্যে রয়েছে আকাশ-পাতাল ফারাক। সামাজিক, তামাদ্দুনিক, সাংস্কৃতিক, নৈতিক ও মানসিক আচার-আচরনের মধ্যে রয়েছে অনেক তারতম্য। তাই মুসলিমদের বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মুশরিক নর-নারীকে বিবাহ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। কেউ বলতে পারে একজন মু'মিন স্বামী বা স্ত্রীর প্রভাবে মুশরিক স্ত্রী বা স্বামী এবং তার পরিবার ও পরবর্তী বংশধররা ইসলামী আকীদা বিশ্বাস ও জীবন ধারায় গভীরভাবে আকৃষ্ট ও প্রভাবিত হয়ে যেতে পারে, কিছুক্ষনের জন্য তা মেনে নিলাম, তবে সেখানে এমনও তো হতে পারে মুশরিক স্বামী বা স্ত্রীর ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-ভাবনা ও আচার-ব্যাবহারে কেবলমাত্র মু'মিন স্বামীর বা স্ত্রীরই নয় বরং তার সমগ্র পরিবার ও পরবর্তী বংশধরদেরও প্রভাবিত হতে পারে। অথবা কেউ প্রভাবিত না হলেও যদি এমন একটি পরিবার হয় যাদের বিশ্বাস ও আচরণ দুইজনের দুই মেরুর তাহলে সেখানে কখনো শান্তি আসতে পারে না। অন্য ভাবে বলা যায়, ইসলাম ও কুফর কখনো একসাথে চলতে পারে না। যেমন আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-
وَمَن يَبۡتَغِ غَيۡرَ ٱلۡإِسۡلَٰمِ دِينٗا فَلَن يُقۡبَلَ مِنۡهُ وَهُوَ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ ٨٥ ﴾ [ال عمران: ٨٥]
‘আর যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন চায় তবে তার কাছ থাকে কখনো কোন কিছু গ্রহণ করা হবে না বরং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্থদের অর্ন্তভুক্ত হবে’। {সূরা আল-েইমরান, আয়াত : ৮৫}
এই ধরনের দাম্পত্য জীবনের ফলশ্র“তিতে ইসলাম, কুফর ও শিরকের এমন একটি মিশ্রিত জীবন ধারা সেই গৃহে ও পরিবারে লালিত হবে যা অমুসলিমরা যতই পছন্দ করুক না কেন ইসলাম তাকে এক মুহূর্তের জন্যও পছন্দ করতে প্রস্তুত নয়। এমন বিবাহকে মহান আল্লাহ তা’য়ালা কঠোর ভাবে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন-وَلَا تَنكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّىٰ يُؤْمِنَّ ۚ وَلَأَمَةٌ مُّؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ ۗ وَلَا تُنكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّىٰ يُؤْمِنُوا ۚ وَلَعَبْدٌ مُّؤْمِنٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ
(হে ইমানদারেরা) তোমরা মুশরিক নারীদেরকে কখনো বিয়ে করো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে ৷ একটি সম্ভ্রান্ত মুশরিক নারী তোমাদের মুগ্ধ করলেও একটি মু’মিন দাসী তার চেয়ে অনেক ভালো ৷ আর মুশরিক পুরুষদের সাথে নিজেদের নারীদের কখনো বিয়ে দিয়ো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে ৷ একজন সম্ভ্রান্ত মুশরিক পুরুষ তোমাদের মুগ্ধ করলেও একজন মুসলিম দাস তার চেয়ে অনেক ভালো (সূরা বাকারা-২২১)
মহান আল্লাহ তা’য়ালার এ কঠোর নিষেধাজ্ঞার পর, কোন খাঁটি ও সাচ্চা মু'মিন নিছক নিজের যৌন লালসা মেটানোর জন্য কখনো নিজ গৃহে ও পরিবারে কাফেরী ও মুশরিকী চিন্তা-আচার-আচরণ লালিত হবার এবং নিজের অজ্ঞাতসারে জীবনের কোন ক্ষেত্রে কুফর ও শিরকে প্রভাবিত হয়ে যাবার বিপদ ডেকে আনতে পারে না৷ কেননা এ জাতীয় বিবাহ যেমন মুসলিম মিল্লাতের জন্য সাংঘর্ষিক, তেমনি এ বিবাহ তাকে জাহান্নামের আগুনের অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করতে পারে। যেমন মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-
وَيُبَيِّنُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ﴾ أُولَٰئِكَ يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ ۖ وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى الْجَنَّةِ وَالْمَغْفِرَةِ بِإِذْنِهِ
তারা তোমাদের আহ্বান জানাচ্ছে আগুনের দিকে আর আল্লাহ নিজ ইচ্ছায় তোমাদেরকে আহ্বাান জানাচ্ছেন জান্নাত ও ক্ষমার দিকে, তিনি নিজের বিধান সুস্পষ্ট ভাষায় লোকদের সামনে বিবৃত করেন ৷ আশা করা যায় , (মু’মিনরা) তারা শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করবে ৷ । বাকারা-২২১
কেননা মুশরিকরা আহ্বান করে কুফরীর দিকে আর কুফরীর স্থান হলো জাহান্নাম তথা আগুন।যেমন সূরা বাকারার ২৫৭ নং আয়াতে মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-
اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُم مِّنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ ۖ وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَوْلِيَاؤُهُمُ الطَّاغُوتُ يُخْرِجُونَهُم مِّنَ النُّورِ إِلَى الظُّلُمَاتِ ۗ أُولَٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ﴾
অর্থাৎঃ ঈমানদারদের অবিভাবক হলেন স্বয়ং আল্লাহ তা’য়ালা, তাদেরকে তিনি অন্ধকার থেকে আলোর মধ্যে নিয়ে আসেন ৷ আর যারা কাফের তাদের অবিভাবক হলো তাগুত (শয়তান), সে তাদের আলোর পথ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে অন্ধকারের মধ্যে টেনে নিয়ে যায়। মূলত এরা আগুনের অধিবাসী ৷ সেখানেই এরা অনন্তকাল থাকবে ৷
অতএব দুনিয়াবী কোন চাকচিক্যময় কাজের ফাকেও যদি ধরে নেওয়া হয় যে, কোন মু'মিন কোন মুশরিকের প্রতি আসক্ত হয়ে গেছে তাহলেও ঐ মোমিনের ঈমানের দাবী হচ্ছে এই যে, সে নিজের পরিবার, বংশধর ও নিজের দ্বীন, নৈতিকতা ও চরিত্রের স্বার্থে নিজের ব্যক্তিগত আবেগকে কুরবানী করে নিজের ঈমানকে হেফাজত করবে। আর এটাই হলো মোমিনের গুন।

লেখকঃ ডাঃ হাফেজ মাওলানা মোঃ সাইফুল্লাহ মানসুর
সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলাম প্রচার পরিষদ, খুলনা

১৭ অক্টোবর, ২০১৭ ১৬:২৭ পি.এম